
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া ডাংগী তেলিপাড়া এলাকায় অনুমোদন ও মাননিয়ন্ত্রণ ছাড়াই নকল প্রসাধনী তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি বসতবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে সাবান, শ্যাম্পু, ফেসক্রিম, সরিষার তেল, মাথার তেল ও ট্যালকম পাউডারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ও পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার নিরিবিলি পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র বসতবাড়ির ভেতরে এসব পণ্য তৈরি করছে। পরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়ক ও বোতল ব্যবহার করে পণ্যগুলো স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নুর ইসলামের ছেলে শামীম ইসলাম একটি স্থানে বোতলজাত ও প্রসাধনী প্যাকেটজাত করার কাজ করছেন। সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাসায়নিকযুক্ত তেল ও বিভিন্ন পণ্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়। আনসার আলী নামে এক ব্যক্তিকেও সেখানে কাজ করতে দেখা যায়।
প্লাস্টিকের ঝুড়ি ও কাঠের ট্রের ওপর সারিবদ্ধভাবে রাখা ছোট ছোট হলুদ ক্যাপের বোতলে বিভিন্ন তরল পদার্থ ভরে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার মান নিয়ে কোনো ধরনের সরকারি তদারকি নেই। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিম্নমানের রাসায়নিক দিয়ে তৈরি প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বকে অ্যালার্জি, জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট পণ্যের রাসায়নিক উপাদান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিশ্চিত করতে যথাযথ পরীক্ষাগারে পরীক্ষা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী অবিলম্বে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিএসটিআই ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক শামীম ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তিনি চুল কালো করার ‘ব্ল্যাক বিউটি’ তেল ও চুলের প্রোটিনজাতীয় তেল উৎপাদন করেন। পাশাপাশি তিনি ডিটারজেন্ট পাউডার ও সরিষার তেলও তৈরি করতেন বলে জানান।
শামীম ইসলাম আরও বলেন, তিনি ভাঙারির দোকান থেকে বোতল সংগ্রহ করে সেগুলো পরিষ্কার করার পর তাতে প্রসাধনী ভরে বাজারজাত করেন। তার দাবি, এসব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, ফায়ার লাইসেন্স বা পরীক্ষাগারের কোনো সরকারি অনুমোদন তার নেই।
অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালানোর কারণ হিসেবে তিনি নিজেকে ‘সার্চ হিউম্যান সোসাইটি’ নামের একটি মানবাধিকার সংস্থার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বে থাকার কথা উল্লেখ করেন। তবে এ পরিচয়ের কারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন নেই—এমন দাবির কোনো সরকারি ভিত্তি আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শামসুল আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।