
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল প্রকল্পের আওতায় গড়ে তোলা বিলাসবহুল অতিথিশালা নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় তিন বছর পরও চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এবার এটি ২৯ বছরের জন্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ টেন্ডার আহ্বান করেছে।
সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সর্বোচ্চ দরদাতাকে অতিথিশালাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত টেন্ডার জমা নেওয়া হবে।
সেতু বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিথিশালাটি নির্মাণ শেষ হলেও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এটি কখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্মাণের পর থেকে এটি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অতিথিশালাটি নির্মাণে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি আধুনিক বাংলো, ছয়টি কক্ষ এবং একটি সুইমিংপুল রয়েছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় আরও ৩০টি রেস্টহাউস নির্মাণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য সফরকে বিবেচনায় রেখেই অতিথিশালাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
কর্ণফুলী টানেল ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যে পরিমাণ যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার তুলনায় অনেক কম যানবাহন টানেল ব্যবহার করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৭ হাজার ২৬০টি যানবাহন চলাচলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে গড়ে চলাচল করছে মাত্র ৩ হাজার ৮৭৮টি যানবাহন।
এর ফলে টোল থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ লাখ ২২ হাজার টাকা আয় হলেও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৩ লাখ টাকা। এর আগে দৈনিক ব্যয় প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ছিল, যা পরে কমিয়ে আনা হয়েছে।
চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত টানেল দিয়ে ৩৭ লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করেছে এবং মোট টোল আদায় হয়েছে প্রায় ১০৬ কোটি টাকা।
টানেলের দক্ষিণ প্রান্তে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি খালের পাশে প্রায় ৭২ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে সার্ভিস এরিয়া। প্রকল্পের শুরুতে এই অংশ পরিকল্পনায় না থাকলেও পরে এটি যুক্ত করা হয়।
এখানে রয়েছে—
এসব স্থাপনায় প্রায় ১ হাজার ১৮২ টন ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
অতিথিশালা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে পারকি সৈকতের পাশে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ১৩ একরের বেশি জমিতে প্রায় ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে।
প্রকল্পে ১০টি সিঙ্গেল কটেজ, চারটি ডুপ্লেক্স কটেজ, একটি তিনতলা বহুমুখী ভবন, হ্রদ, শিশুদের বিনোদন এলাকা এবং অন্যান্য পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পটির কাজ বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী জানান, অতিথিশালাটি নির্মাণের পর থেকে জনবলের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য ২৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হচ্ছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে লিজ দেওয়া হবে।