1. dsdc.mostafiz@gmail.com : mrahman :
  2. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  3. info@www.media71bd.com : Media 71 :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষঃ
‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বেড়েছে দেড় গুণ পিএইচপির গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি, ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন ওয়েবসাইট সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা, পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে ছাড়ার নির্দেশ রাজধানীর ৩৩ স্থানে প্রতিমা বিসর্জন, নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি অস্ট্রেলিয়ায় গাড়িচাপায় গুরুতর আহত হেলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ ১ নভেম্বর থেকে পিঠা-পুড়ি, পেঁয়াজু ও ফলের রসের দোকানেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩ সেনবাগ উপজেলা প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত, সভাপতি নিজাম ও সাধারণ সম্পাদক আলো বিসর্জনের বিষাদে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা, মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির সাজার তথ্য ছিল না বন্দি তালিকায়

পিএইচপির গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি, ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন ওয়েবসাইট

টেক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। এরই মধ্যে ত্রুটি সংশোধনে নতুন সংস্করণ প্রকাশ করা হলেও, কিছু ওয়েবসাইটে হামলার চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাজ্যের এডিনবরা কাউন্সিলের ওয়েবসাইট এবং বিবিসির কয়েকটি অনুষ্ঠানভিত্তিক ওয়েবপেজও পাওয়া যায়নি। তবে এসব ওয়েবসাইট বন্ধ হওয়ার সঙ্গে পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) সতর্ক করেছে, দ্রুত নিরাপত্তাত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। সংস্থাটির আশঙ্কা, এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা সার্ভারের ফাইল ও ডেটাবেজে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

বিভিন্ন দেশে ওয়েবসাইট বন্ধ

নেদারল্যান্ডসে দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র, সরকারি পোর্টাল ওভারহেইড.এনএল, রটারডাম বন্দর, জাতীয় ফুটবল সংস্থা কেএনভিবি, কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং কিছু হাসপাতালের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে।

ফিনল্যান্ডের সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভালতোরি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারি নেটওয়ার্কের ওয়েব পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রকাশের অপেক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের ওয়েবসাইটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে।

ডেনমার্কের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কমবিটও কয়েকটি পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে দেশটির জাতীয় স্কুল যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা কাউন্সিলের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বিবিসির ‘ডক্টর হু’ ও ‘দ্য ট্রেইটরস’-এর মতো কয়েকটি অনুষ্ঠানের ওয়েবপেজও পাওয়া যায়নি। তবে এসব সাইটের ক্ষেত্রে পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটিই বন্ধের কারণ কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় শনাক্ত দুর্বলতা

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটিগুলো শনাক্ত করেন। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, দুর্বলতাগুলো এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শনাক্তের বাইরে ছিল।

উইজ জানিয়েছে, উন্নত এআই মডেল ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একাধিক অ্যাপ্লিকেশনে কার্যকর হামলার কৌশল তৈরি ও অভিযোজিত করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অনুমান, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ এসব ত্রুটির কারণে ঝুঁকিতে থাকতে পারে। তবে এ পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ওপেনএআই এক ব্লগ পোস্টে বিষয়টিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হ্যাকাররা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটকে লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি ইন্টারনেটজুড়ে পিএইচপির দুর্বল সংস্করণ ব্যবহার করা সার্ভার খুঁজে বের করে ব্যাপকভাবে হামলার চেষ্টা চালাতে পারে।

বিশ্বের বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে

ওয়েবসাইট তৈরিতে পিএইচপি বহুল ব্যবহৃত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। ওয়েব প্রযুক্তিবিষয়ক পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান ডব্লিউথ্রিটেকসের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ওয়েবসাইটের প্রোগ্রামিং ভাষা শনাক্ত করা যায়, তার প্রায় ৭৫ শতাংশে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। এ ভাষার ওপর নির্ভরশীল ওয়ার্ডপ্রেস বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ ওয়েবসাইট পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়।

ওয়ার্ডপ্রেস ছাড়াও দ্রুপাল, জুমলা ও ম্যাজেন্টার মতো প্ল্যাটফর্মে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। ফলে সরকারি পোর্টাল, সংবাদমাধ্যম, অনলাইন বিপণনব্যবস্থা এবং ছোট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সোফোসের কাউন্টার থ্রেট ইউনিটের বিশেষজ্ঞ ডন স্মিথ বিবিসিকে বলেন, হ্যাকারদের কাছে এ দুর্বলতা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, শুধু নিরাপত্তা হালনাগাদ ইনস্টল করাই যথেষ্ট নয়; কোনো প্রতিষ্ঠানের কোথায় কোথায় পিএইচপি ব্যবহৃত হচ্ছে, তা শনাক্ত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ডেন কেইনেখট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, নিরাপত্তাত্রুটি কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের হামলা শুরু হয়েছে। হামলার নতুন কৌশল সামনে আসায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফায়ারওয়ালের সুরক্ষাব্যবস্থা হালনাগাদ করছে। তবে তিনি এটিকে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ ইনস্টল করার পরামর্শ দেন।

দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদের আহ্বান

পিএইচপির নির্মাতারা মঙ্গলবার দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটির কথা জানান। বুধবার সেগুলো সংশোধন করে নতুন সংস্করণ প্রকাশ করা হয়।

ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাজ্যের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পিএইচপি ব্যবহারকারীদের দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ ইনস্টল করার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের পরামর্শ, তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেম পুরোপুরি সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত তা বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সিইআরটি-ইইউ) জানিয়েছে, এসব নিরাপত্তাত্রুটি ব্যবহারকারীর পূর্বানুমতি ছাড়াই দূর থেকে কোড চালানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর ফলে হ্যাকাররা ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টল করা কিংবা ওয়েবসাইট অচল করে দেওয়ার মতো হামলা চালাতে পারে।

পিএইচপির কোন কোন সংস্করণ আক্রান্ত, সে বিষয়ে সব তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। সিইআরটি-ইইউর সতর্কতা অনুযায়ী, ২০০৪ সালে প্রকাশিত পিএইচপি ৫ থেকে পরবর্তী সংস্করণগুলোও ঝুঁকিতে থাকতে পারে। পিএইচপি ফাউন্ডেশন সাম্প্রতিক সংস্করণগুলোর জন্য সংশোধনী প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি পিএইচপি ৮.১ বা তার আগের সংস্করণ ব্যবহারকারীদের নতুন সংস্করণে উন্নীত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংশোধনী ইনস্টল করার পাশাপাশি কোনো সিস্টেমে এরই মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। এ ছাড়া তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যার, হোস্টিং পরিষেবা এবং পিএইচপি-নির্ভর অন্যান্য ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page