
পরপর দুই দিন ধরে একের পর এক ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ইউরোপের আকাশপথে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত ৩৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বোমাতঙ্কের কারণে জরুরি অবতরণ, ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তনসহ নানা ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডসহ অন্তত ১৬টি দেশের ফ্লাইট এ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।
বোমাতঙ্কের ঘটনায় রায়ান এয়ার, ইজিজেট, উইজ এয়ার ও এয়ার লিঙ্গাসের মতো শীর্ষস্থানীয় উড়োজাহাজ সংস্থার ফ্লাইটও বিঘ্নিত হয়েছে। লন্ডনের হিথ্রো ও বার্মিংহাম বিমানবন্দরেও একাধিক হুমকি বার্তা পাওয়া যায়। তবে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও কোনো বিমানে বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত সব ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণ করেছে।
তদন্তকারীদের বরাতে জানা গেছে, সাধারণত প্রতিদিন দু-একটি ভুয়া সতর্কবার্তা পাওয়া গেলেও অল্প সময়ে এতগুলো হুমকির ঘটনা স্বাভাবিক নয়। তাঁদের ধারণা, এর পেছনে সমন্বিত কোনো তৎপরতা থাকতে পারে।
রায়ান এয়ারের একটি ফ্লাইটের শৌচাগারের দেয়ালে ‘বোমা’ লেখা দেখতে পেয়ে তল্লাশি চালানো হয়। অন্যদিকে, বোমাতঙ্কের কারণে এয়ার লিঙ্গাসের একটি ফ্লাইট ফ্রান্সের একটি সামরিক ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে।
ইতালির রোম ও বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে পাঠানো হুমকি বার্তায় নিজেদের রাশিয়ার উগ্র জাতীয়তাবাদী ও নারীবাদবিরোধী গোষ্ঠী ‘মেল স্টেট’-এর সদস্য বলে দাবি করা হয়। বার্তায় আকাশ লাল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিস্লাভ পোজদনিয়াকভ এ ঘটনায় দায় স্বীকার করেননি।
এসব ঘটনার পেছনে রাশিয়া বা ইরানের মতো কোনো রাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আড়ালে থেকে আতঙ্ক ছড়ানোর এ ধরনের তৎপরতা ‘ছায়াযুদ্ধ’ বা ‘আন্ডার-থ্রেশহোল্ড ওয়ারফেয়ার’-এর অংশ হতে পারে।
সম্প্রতি সুপারমার্কেটের শীতলীকরণ ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনার পরপরই ইউরোপের বিমান চলাচলে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ক্রেমলিন।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবহন কমিশনার এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। বেসামরিক যাত্রীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হুমকিকে তাঁরা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান