
ছয় দফা দাবিতে আজ রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
শনিবার (৬ জুন) রাতে ঢামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি ডা. মোস্তফা আমীর ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নাবিল বিন কাশেম স্বাক্ষর করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নোটিশ (স্মারক নং: ৫৯.০০.০০০০.১৪০.১৬.১০.২৫.৩৩৬) এ উত্থাপিত ‘বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক প্রস্তাবগুলোর’ বিরুদ্ধে চিকিৎসক সমাজের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে এফসিপিএস কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোতে বৈষম্য, ভর্তি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি, ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের অপ্রতুল বেতন, কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বারবার দাবি উত্থাপন, প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত দাবিগুলো পূরণে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না করে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
ঢামেক ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি জানিয়েছে, চিকিৎসক সমাজের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
১. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়ন নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে।
২. বিএমইউ ও বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে আনতে হবে।
৩. নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আনুষঙ্গিক ভাতাসহ ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করে প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই পরিশোধ করতে হবে।
৪. ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করতে হবে।
৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আগের মতো সাধারণদের তুলনায় ২ বছর বেশি, অর্থাৎ ৩৪ বছর করতে হবে।
৬. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে এবং শ্রম আইন ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।