
বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস রচিত হলো মিরপুরে। চার দশকের অপেক্ষা শেষে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া, যা তাদের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম।
ইনিংসের শুরুতে তাসকিন আহমেদ ম্যাথু শর্টকে ফিরিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। এরপর মোস্তাফিজুর রহমান একই ওভারে কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশকে আউট করে অস্ট্রেলিয়াকে বড় ধাক্কা দেন। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে সফরকারীরা।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। সপ্তম উইকেটে তাদের ১০৩ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে তারা।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন। তানভীর ইসলাম শিকার করেন দুটি উইকেট।
এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হলে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের ভিত মজবুত করেন।
সৌম্য ৪২ রান করে আউট হওয়ার পর শান্তও ব্যক্তিগত ৪২ রানে বিদায় নেন। তবে ইনিংসটি খেলার পথে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে এই কীর্তি গড়া ১১তম ব্যাটার হন শান্ত।
লিটন দাস ২১ রান করে আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে।
তবে শেষদিকে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শুধু ম্যাচই নয়, ইতিহাসের প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও নিজেদের করে নেয় টাইগাররা।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি একটি মাইলফলক অর্জন, যা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে।