
হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম Axios-কে জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রে জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিযোগটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি চলছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়ার পরই এ হামলার অভিযোগ ওঠে। ফলে ওই সমঝোতা টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা UK Maritime Trade Operations (UKMTO) জানিয়েছে, সোমবার (৬ জুলাই) তারা হরমুজ প্রণালীতে ওমান উপকূলের কাছে চলাচলরত একটি তেলবাহী জাহাজ থেকে জরুরি বার্তা পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি জাহাজই উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে গত সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প Axios-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, জানাজা চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা না চালানোর বিষয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা ছিল এবং জানাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ জড়ো হন। রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিন ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় শোকযাত্রা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।