
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দক্ষিণ ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, স্পেন সীমান্তসংলগ্ন ফরাসি পাইরেনিস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত এক ডজনেরও বেশি ছোট শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে পেরপিনিয়ানের কাছে ত্রেভিলাক এলাকায় ছড়িয়ে পড়া দাবানলে ৪ হাজার ৬০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকে বাতাসের তীব্রতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের নতুন করে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে।
দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর ডি ফ্রান্স-এর ওপরও। জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সোমবারের রেসের শেষ ৪০ কিলোমিটার এলাকায় দর্শকদের না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন আয়োজকরা।
এদিকে, ফ্রান্সকে সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন সাইপ্রাস ও সুইডেন থেকে চারটি বিশেষ অগ্নিনির্বাপক বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
শুধু ফ্রান্স নয়, দাবানলের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী স্পেনেও। দেশটির কাতালোনিয়া অঞ্চলের একটি প্রাকৃতিক উদ্যানে ২ হাজার ২০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, কাতালোনিয়ার কর্তৃপক্ষের মতে, শনিবার রাত থেকে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে।
তবে কাতালোনিয়ার দক্ষিণে কাস্তেলন প্রদেশের একটি জাতীয় উদ্যানে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আরও প্রায় ৫০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।