
আন্তর্জাতিক বাজারে একদিনের দরপতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। কম দামে কেনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন স্বর্ণের দাম ১ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৭ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে।
স্টোনএক্সের সিনিয়র মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট বব হ্যাবারকর্ন বলেন, আগের দিনের দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা আবারও স্বর্ণ কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। তার মতে, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দামের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হচ্ছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার-সংক্রান্ত নীতি।
তিনি জানান, ফেড যদি তুলনামূলক নমনীয় মুদ্রানীতি গ্রহণ করে, তাহলে স্বর্ণ ও রুপার দাম আরও বাড়তে পারে। তবে সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত এলে মূল্যবান এই দুই ধাতুর ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানি বাহিনী প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এতে তিন সপ্তাহ আগে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি করবে। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, উচ্চ সুদের হার সুদ-আয়কারী সম্পদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে স্বর্ণের চাহিদার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে, সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে বর্তমানে সেপ্টেম্বরে মার্কিন ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬৩ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন ব্যবসায়ীরা।