
স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপের নির্বাচন আগামী অক্টোবরে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে আগামী আগস্ট মাসেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে এবং আগস্টের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা যাবে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কয়টি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে কম সময়ে যত বেশি নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ বা সিটি করপোরেশন—কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে যে প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন শুরু হবে, সেটির সব ধাপ সম্পন্ন করেই পরবর্তী প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে যাওয়া হতে পারে। তবে আদালতের কোনো নির্দেশনা বা আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
প্রবাসী ভোটাররা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়েও এখনো কমিশনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে গৃহীত কার্যকর পদক্ষেপগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অনুসরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রা কমিয়ে আনতে কমিশন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক নির্বাচনে যে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে কমিশন কাজ করবে।
আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নতুন আচরণবিধির খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় বিদ্যমান আইন যথেষ্ট কার্যকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, আইন সংশোধন হলে নতুন আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আর সংশোধন না হলে বিদ্যমান আইনেই ভোট গ্রহণ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।