
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম-ধুলদিয়া ইউনিয়নের আতখলা গ্রামের ১৬৫ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে অভিযুক্ত পক্ষ। তাদের দাবি, জমিটি জবরদখল করা হয়নি; বরং বৈধ দলিলের ভিত্তিতে ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা জমিটি ভোগদখলে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আতখলা গ্রামের হাজী রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া (রতন)-এর নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের ‘জবরদখলকারী’ এবং হাজী রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়াকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও একপাক্ষিক। এ ধরনের সংবাদে তারা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, বিতর্কিত সম্পত্তির মালিকানার ধারাবাহিক নিবন্ধিত দলিল তাদের কাছে রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের নিলামের মাধ্যমে দুর্গাদাস চক্রবর্তী জমিটি ক্রয় করেন। পরে ১৯২৭ সালে নিবন্ধিত সাফ কাওলা দলিলের মাধ্যমে সুলতান ভূঁইয়ার নামে এবং ১৯৩২ সালে আরেকটি নিবন্ধিত সাফ কাওলা দলিলের মাধ্যমে তার স্ত্রীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়।
তাদের আরও দাবি, ১৯৮৮ সালে আর.ও.আর. (R.O.R.) রেকর্ডের বিরুদ্ধে হাজী গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া আদালতে মামলা করে ডিক্রি লাভ করেন। বর্তমানে মাঠ পর্চা-সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তারা বলেন, দীর্ঘ ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা বৈধভাবে জমিটি ভোগদখলে রয়েছেন এবং কোনো অবৈধ দখল করা হয়নি।
সালিশে অংশ না নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তারা বলেন, প্রয়োজনীয় দলিলপত্র না থাকার কারণে তারা সালিশে যাননি—এ দাবি সঠিক নয়। তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ সালিশের কথা বলে আদালতে মামলা করায় গ্রামবাসীর পরামর্শে তারা বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য আদালতের ওপরই আস্থা রেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাজী রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়াকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করারও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বক্তারা বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রকাশিত সংবাদের সংশোধন বা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তারা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আতখলা গ্রামের ১৬৫ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।