
হরমুজ প্রণালি আবারও জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে ইরানের সঙ্গে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তার মতে, এ ধরনের সমঝোতা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং তেলের দাম কমে আসবে।
মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং বুধবারের মধ্যেই প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে চলমান উত্তেজনা কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোবে।
ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় করতে পারবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, সম্ভাব্য সমঝোতার মূল লক্ষ্য হবে আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাড়ানোর বিষয়ে ইরান ও ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। স্টেট ডিপার্টমেন্টে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আলোচনা অগ্রসর হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আশা রয়েছে।
স্কট বেসেন্টের মন্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও। সোমবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকে সরে আসার পর হরমুজ প্রণালি অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় খুলে যেতে পারে।
তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে— এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বেসেন্ট বলেন, সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার শুরু করেছে। তার মতে, সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও দ্রুত স্থিতিশীল হতে পারে।