1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলনের আশা, কিছু এলাকায় মিলিবাগ ও হোয়াইট ফ্লাইয়ের আক্রমণ

কৃষি ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই ভেজালমুক্ত ও সুস্বাদু গুড় উৎপাদনের জন্য পরিচিত। জেলার উৎপাদিত আখের বড় একটি অংশ স্থানীয়ভাবে গুড় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। চলতি মৌসুমেও জেলার নয়টি উপজেলায় ব্যাপক আকারে আখের চাষ হয়েছে। তবে কয়েকটি এলাকায় মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই ও ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ দেখা দেওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা এবারও ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৮১৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে। সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, বেলকুচি, কাজীপুর ও চৌহালী উপজেলায় আখের চাষ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতে আখের বৃদ্ধি সন্তোষজনক হলেও কয়েকটি এলাকায় মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই এবং ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ দেখা গেছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার আখচাষি আব্দুল মালেক বলেন, শুরুতে চার বিঘা জমির আখের বৃদ্ধি ভালো হলেও পরে কিছু গাছে মিলিবাগের আক্রমণ দেখা দেয়। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বালাইনাশক প্রয়োগের পর পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

শাহজাদপুর উপজেলার কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি জমিতে হোয়াইট ফ্লাইয়ের আক্রমণ হয়েছে। তবে নিয়মিত পরিচর্যা চলছে। আখের বাজারদর ভালো থাকলে লাভজনক উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান।

কৃষকদের মতে, আখ শুধু একটি অর্থকরী ফসল নয়, সিরাজগঞ্জের হাজারো পরিবারের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। আখ কাটার মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য গুড়ের ভাটা চালু হয়, যেখানে শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ফলে আখের উৎপাদন কমে গেলে কৃষকের পাশাপাশি গুড় উৎপাদক ও শ্রমজীবী মানুষের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবার প্রথমবারের মতো আখ চাষে কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নত জাতের আখ চাষ, আধুনিক পরিচর্যা এবং রোগ-পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত জমিগুলোতে কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, কয়েকটি এলাকায় মিলিবাগ, হোয়াইট ফ্লাই ও ছত্রাকজনিত রোগের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও তা এখনো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এসব রোগ-পোকা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আখের প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ভেজালমুক্ত গুড়ের উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার উৎপাদিত আখের সিংহভাগই গুড় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া চিবিয়ে খাওয়ার জন্য জনপ্রিয় ‘রং বিলাস’ জাতের আখের চাষও এবার বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে এ জাতের ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভজনক দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রোগ-পোকার আক্রমণ শুরুতেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ, সুষম সার প্রয়োগ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page