
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় আরও ২০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সে ক্ষেত্রে রাতে শেষ ট্রেন রাত ১১টায় চলাচল করবে।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাতে সময় বাড়াতে অতিরিক্ত ট্রেনচালক প্রয়োজন হওয়ায় ইতোমধ্যে অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের প্রশিক্ষণ চলছে, যা আগামী ২৬ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা।
প্রশিক্ষণ শেষে নতুন অপারেটরদের দিয়ে ট্রেন চালানো শুরু হবে। একই সঙ্গে রাতে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ানো হলে রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
বর্তমানে রাতে মতিঝিল থেকে উত্তরা অভিমুখে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ে রাত সাড়ে ১০টায়। আর উত্তরা থেকে মতিঝিলের উদ্দেশে দিনের শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সময় বাড়ানো হলে রাতে আরও দুটি ট্রেন যুক্ত হবে।
সকালে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে সকাল সাড়ে ৬টায়। অন্যদিকে মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। তবে সকালে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।
ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, প্রতি সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের সময় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। এখন ধাপে ধাপে চলাচলের সময় বাড়ানো হচ্ছে।
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। যদিও প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, এই পথে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ যাত্রী চলাচলের কথা ছিল।
এদিকে মেট্রোরেল কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বর্ধিত অংশটি আগামী বছর চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি চালু হলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
ঢাকায় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্টেশন চালু করা হয়। ২০২৩ সালের শেষ দিনে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয়।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম জানান, রাতে দুটি ট্রেন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে দিন-তারিখ শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। ট্রেন বাড়লে দুই ট্রেনের মধ্যকার বিরতিও কমে আসবে। আগামী মাসে রাতে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে।