1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আফ্রিকার ছয়টি দেশে ‘যৌনাঙ্গ চুরি’ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে কেন্দ্র করে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্যের কারণে এসব গুজব আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গুজবের একটি প্রচলিত দাবি হলো—অপরিচিত কেউ কোনো পুরুষের পিঠে হাত দিয়ে সামান্য টোকা দিলেই তার যৌনাঙ্গ ছোট হয়ে যেতে বা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে।

এ ধরনের দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালিয়েছে উত্তেজিত জনতা। কয়েকজন পুরুষ দাবি করেছেন, অপরিচিত কারও সংস্পর্শে আসার পর তাদের যৌনাঙ্গ ও অণ্ডকোষ সংকুচিত বা অদৃশ্য হয়ে গেছে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে কথিত ‘চুরি যাওয়া’ যৌনাঙ্গ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে এ ধরনের গুজব নতুন নয়। বিশেষ করে যেখানে জাদুটোনা ও কুসংস্কারের বিশ্বাস এখনো প্রবল, সেখানে বহু বছর ধরেই এ ধরনের ঘটনা ও গুজবের নজির রয়েছে।

তানজানিয়ায় হামলার শিকার দুই ব্যক্তি

তানজানিয়ার সীমান্তবর্তী বাণিজ্যিক শহর তুন্দুমায় গত এপ্রিলে এমনই এক হামলার শিকার হন মেকানিক বনিফাস এমগালা ও তার এক বন্ধু।

গাড়ি বিক্রির জন্য এক ক্রেতার সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন তারা। কাজ শেষ হওয়ার আগে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে বসলে একদল উত্তেজিত মানুষ তাদের টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায় এবং মারধর করে।

হামলায় এমগালার চোয়ালে গুরুতর আঘাত লাগে এবং একটি দাঁত ভেঙে যায়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারান। দুই দিন পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে জানতে পারেন, তার বন্ধু মারা গেছেন।

এখনো খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয় এমগালাকে। কাজে ফিরতে পারেননি তিনি। স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধের খরচে প্রতিবেশী ও বন্ধুরা তাকে সহায়তা করছেন।

এমগালা বলেন, ওই দিন যে তিনি মৃত্যুর এতটা কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন, তা আগে জানলে রেস্তোরাঁয় খেতে যেতেন না।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে সহিংসতার ভিডিও

তুন্দুমায় একই দিনে আরেকটি হামলা প্রত্যক্ষ করেন ফটোগ্রাফার ও ব্যবসায়ী মাইকেল সিলাভওয়ে। তার ভাষ্য, কথিত ‘যৌনাঙ্গ চুরি’ নিয়ে ভিডিও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আতঙ্ক বাড়তে থাকে।

তিনি জানান, এক ব্যক্তিকে মারধরের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিট যাচাই করেছে। টিকটক ও ফেসবুকে ভিডিওটি এক লাখের বেশি মানুষ দেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোজাম্বিক ও কেনিয়াতেও একই ধরনের হামলার ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি। এসব পোস্টের মধ্যে দলবদ্ধ হামলার ভিডিও, কথিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভবিষ্যৎ হামলার সতর্কবার্তা এবং বিভিন্ন এলাকার ঘটনা নিয়ে নানা দাবি রয়েছে।

মোজাম্বিকে নিহত ৫৫

এই গুজবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোজাম্বিকে। দেশটির পুলিশ গত মে মাসে জানিয়েছিল, ছয় সপ্তাহে একজন পুলিশ কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকারি কর্মচারীসহ ৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল চাপো এসব গুজব ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দাবিগুলো মিথ্যা এবং কারও শরীরের কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসাগত কোনো প্রমাণ সরকার পায়নি।

ইসলামী উগ্রপন্থার কারণে প্রায় এক দশক ধরে অস্থির থাকা দেশটির কাবো দেলগাদো প্রদেশে গত এপ্রিল মাসে দুটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও হামলা হয়। পরে জনসচেতনতামূলক প্রচারণার সময় ওই এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কয়েক সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

সরকার জানিয়েছে, মানুষের এই আতঙ্কের কিছু অংশ ‘কোরো সিনড্রোম’ নামে পরিচিত একটি মানসিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এ অবস্থায় ব্যক্তি মনে করতে পারেন, তার যৌনাঙ্গ শরীরের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে বা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

কেনিয়া ও মালাউইয়েও প্রাণহানি

কেনিয়ার কোয়ালে ও মোম্বাসা উপকূলীয় কাউন্টিতে একই ধরনের গুজবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

মোম্বাসা কাউন্টির কমিশনার মোহাম্মদ নুরের অভিযোগ, কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বেশি ভিউ ও এনগেজমেন্ট পাওয়ার আশায় এসব দাবি ছড়িয়েছেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে এক বাবা ও ছেলেকেও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেশী মালাউইয়েও একই ধরনের গুজবকে কেন্দ্র করে জনতার হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন।

গুজব ছড়াতে সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা

লেখক জুলিয়েন বনহোমের মতে, স্মার্টফোন ও সামাজিক মাধ্যম গুজব দ্রুত ছড়িয়ে দিতে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখছে। একবার কোনো গুজব ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

তার বই দ্য সেক্স থিভস: দ্য অ্যানথ্রোপোলজি অব আ রিউমার-এ যৌনাঙ্গ চুরির মতো গুজব কীভাবে ছড়ায় এবং মানুষ কেন তা বিশ্বাস করে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বনহোমের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এসব দাবিকে মানুষের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে। কারণ ভিডিওতে কোনো ঘটনা সরাসরি ঘটছে বলে মনে হয়।

সামাজিক মাধ্যমের কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেও তারা নিজেরা এসব দাবি বিশ্বাস করেন নাকি জনপ্রিয়তা ও এনগেজমেন্টের জন্য ছড়াচ্ছেন, তা অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। আবার কেউ কেউ ‘যৌনাঙ্গ চুরি’ থেকে রক্ষার কথিত তাবিজ-কবচের প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার করা বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করছে এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে টিকটক এ বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও বন্ধুর মৃত্যুর স্মৃতি এখনো কষ্ট দেয় এমগালাকে। তার ভাষায়, বন্ধুর মৃত্যু যে এতটা অর্থহীনভাবে ঘটেছে, সেটি মনে পড়লে এখনো গভীরভাবে কষ্ট পান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page