
পুকুরের স্বচ্ছ পানিতে দেশীয় নানা জাতের মাছের চাষ। আর পুকুরের পাড়জুড়ে সারি সারি রেড লেডি জাতের পেঁপে গাছ। মাত্র ছয় মাসেই প্রতিটি গাছে ধরেছে বড় বড় পেঁপে। মাছ ও পেঁপের এমন সমন্বিত চাষে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন খাগড়াছড়ির পানছড়ির উদ্যোক্তা ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা।
পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের চন্দ্রনাথ চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা। নিজ গ্রামে পাঁচটি পুকুরসহ চার একর জমি তিন বছরের জন্য লিজ নিয়ে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষি প্রকল্প। সেখানে একই সঙ্গে চলছে মাছ ও পেঁপের চাষ।
প্রকল্পের পাঁচটি পুকুরে প্রায় ৪০০ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি পুকুরের চারপাশে রোপণ করেছেন প্রায় ১ হাজার ১০০টি রেড লেডি জাতের পেঁপের চারা। ছয় মাসের মধ্যেই গাছগুলোতে আশানুরূপ ফলন এসেছে।
ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা জানান, শ্রমিকের মজুরি, জমির লিজ, পেঁপের চারা, মাছের পোনা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পরিচর্যা ও উৎপাদন ঠিক থাকলে পেঁপে ও মাছ বিক্রি করে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, “পরিচর্যা ও উৎপাদন ঠিক থাকলে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করতে পারবো বলে আশা রাখি।”
তার এই উদ্যোগ শুধু নিজের আয়ের সম্ভাবনাই তৈরি করেনি, পাহাড়ি অঞ্চলের সীমিত ও অনাবাদি জমিতে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একই জমি থেকে একাধিক আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পানছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয় কান্তি চাকমা বলেন, ঈশ্বর চন্দ্র চাকমাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার উদ্যোগ ও আগ্রহ দেখে শুরু থেকেই তিনি আশাবাদী ছিলেন। পানছড়িতে এভাবে পরিকল্পিতভাবে জলাশয় ব্যবহার করা গেলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও মাছ বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
পানছড়ি উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিবস চাকমা বলেন, শুধু পেঁপে বিক্রি করেই ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা প্রায় ৮ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন। প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় প্রথম বছরেই তিনি ভালো সাফল্য পেয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ দেখে অন্য বেকার যুবকরাও কৃষিতে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।
ঈশ্বর চন্দ্র চাকমার এই উদ্যোগ দেখে স্থানীয়দের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, তার সফলতা দেখে পাহাড়ি এলাকার আরও বেকার যুবক সমন্বিত কৃষির দিকে এগিয়ে আসবেন এবং নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।