1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস

মিডিয়া ডেস্ক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের আপত্তি ও ওয়াকআউটের মধ্যেই মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, গুমকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি এবং সম্পত্তি হস্তান্তরে আজীবন ভোগস্বত্বের আইনি স্বীকৃতি দিতে তিনটি বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ও সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপন করেন। আর গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

নতুন কাঠামোতে মানবাধিকার কমিশন

২০০৯ সালের আইন রহিত করে পাস হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশনের নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিল অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হবে। এতে অন্তত একজন নারী এবং একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের আলোকে ‘জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ নামে একটি ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে বিলটি নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, নতুন আইনে দ্বিমুখী নীতি রাখা হয়েছে। তার দাবি, সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারলেও আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আগে নোটিশ দিয়ে জবাব চাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এই ধারাকে আইন দুর্বল করার পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধী সদস্যরা আলোচনা থেকে সরে গিয়ে ওয়াকআউট করেন। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও বিলটির সমালোচনা করেন।

গুমকে অ-জামিনযোগ্য অপরাধের স্বীকৃতি

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ গুমকে আমলযোগ্য, অ-জামিনযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের মাধ্যমে কাউকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তার অবস্থান অস্বীকার করা কিংবা গোপন করাকে গুম হিসেবে গণ্য করা হবে।

গুমের অপরাধে সাধারণ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তি মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্ষতিপূরণ ফান্ড গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পত্তি তার পরিবারের ব্যবহারের সুযোগ এবং পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার জন্য সনদ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

তবে গুমের ঘটনা তদন্তে আলাদা কোনো স্বতন্ত্র সংস্থা গঠনের পরিবর্তে পুলিশের ওপরই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে।

সম্পত্তি হস্তান্তরে আজীবন ভোগস্বত্ব

১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করে পাস হওয়া বিলে ‘আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষিত দান’ নামে নতুন একটি আইনি ধারণা যুক্ত করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে পিতা-মাতা, পিতামহ বা দাতারা নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় কিংবা জীবনসঙ্গীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করার পরও আমৃত্যু ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।

এই বিধান সব ধর্মের নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য হবে।

বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এর বিরোধিতা করে বলেন, এ বিধান কোরআন ও সুন্নাহর নীতির পরিপন্থি। তারা বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি জানান।

তবে তাদের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে গেলে বিরোধী সদস্যরা সাময়িক ওয়াকআউট করেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সংশোধনী সাধারণ দান বা মুসলিম আইনে প্রচলিত হেবার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। বিদ্যমান কোনো ধর্মীয় ব্যবস্থার সঙ্গেও এর সাংঘর্ষিকতা নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page