
রাজনৈতিক দলগুলোকে হানাহানি ও সংঘর্ষে না জড়িয়ে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে গিয়ে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। আমরা আর রক্তপাত দেখতে চাই না। একটি সুন্দর সমাজ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেখতে চাই। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই গণতন্ত্র আর হারাতে চাই না।’
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলা দীর্ঘদিন ধরে অনেকটাই অবহেলিত। মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর চালুর জন্যও কাজ চলছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের উন্নতির জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বেকারত্ব দূর করতে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে হবে। সুন্দর সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এর আগে দুপুরে দুই দিনের সফরে হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁও পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। পরে সার্কিট হাউজে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনাকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের সমাগম হয়। সফর উপলক্ষে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।
দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। কর্মসূচি শেষে তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন।