
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সাময়িকভাবে ছয়টি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এতে দেড় লাখের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাকার্তার সুকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রথমে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানবন্দরটির আশপাশের আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাই শনাক্ত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দেশটির পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানান, এখন পর্যন্ত ৪৬৭টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কয়েকটি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বিমান সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানবন্দর বন্ধের কারণে সিঙ্গাপুর থেকে আসা-যাওয়া করা ফ্লাইট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটও প্রভাবিত হয়েছে।
পুরওয়াগান্ধি বলেন, পরীক্ষায় আগ্নেয়গিরির ছাই পশ্চিম জাভার দিকে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ার পর আরও কয়েকটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাদের সামনে ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের সময়মতো তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিমানবন্দরগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় না হয়।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপদার্থবিষয়ক সংস্থা বিএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়গিরিটির পূর্ব দিকে জাভা অঞ্চলে ছাই প্রায় ২০ হাজার ফুট বা ৬ হাজার মিটার উচ্চতায় উঠেছে। পশ্চিম দিকে সুমাত্রা অঞ্চলে ছাইয়ের উচ্চতা প্রায় ৫০ হাজার ফুট বা ১৫ হাজার মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
গত শুক্রবার গভীর রাতে আনাক ক্রাকাতাউতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এতে একটানা ভূকম্পন, লাভার ফোয়ারা ও আশপাশের এলাকায় বিকট শব্দ শোনা যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার ভোরেও আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।
আগ্নেয়গিরিটির সাম্প্রতিক তৎপরতার কারণে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং শ্বাসতন্ত্র, চোখ ও ত্বককে আগ্নেয়গিরির ছাই থেকে সুরক্ষিত রাখতে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে শিক্ষার্থী ও বাসিন্দাদের চোখে জ্বালাপোড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে কয়েকটি স্কুল কার্যক্রম বাতিল করেছে। একই সমস্যার কারণে কয়েকজন জেলেও সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।
‘আনাক ক্রাকাতাউ’ নামের অর্থ ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’। ১৮৮৩ সালে ক্রাকাতাউ পর্বতের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের এলাকায় সমুদ্র থেকে নতুন এই আগ্নেয়গিরির আবির্ভাব ঘটে। এরপর থেকে এটি বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় হয়ে আসছে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে সৃষ্ট সুনামিতে সুমাত্রা ও জাভার উপকূলীয় এলাকায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হন।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তার জন্য পরিচিত এ বলয়ে বিশ্বের অধিকাংশ সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অবস্থান।