
চট্টগ্রামে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে প্রায় শতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহিন নামের এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনেকের বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়নি। বর্তমানে মহিনকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মহিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনসহ বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক কাজ করে আসছিলেন। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তার প্রতি আস্থা তৈরি হয়। সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ করে দেওয়ার আশ্বাসে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি টাকা নেন বলে অভিযোগ।
তবে টাকা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময় পার হলেও অনেকের সংযোগের ব্যবস্থা হয়নি। পরে ভুক্তভোগীরা সংযোগের অগ্রগতি বা টাকা ফেরতের বিষয়ে জানতে মহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাকে এলাকায়ও দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে প্রায় ১০০ জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে মোট কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে কতজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ স্পষ্ট হবে।
এদিকে মহিনকে ঘিরে এলাকায় বিভিন্ন আলোচনা ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি চারটি বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে মহিনের অবস্থান শনাক্ত, তার মাধ্যমে নেওয়া অর্থের হিসাব নিরূপণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা বলছেন, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের নামে কোনো ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারীর হাতে টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করে সরকারি ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনুমোদন ও সংযোগের প্রক্রিয়া যাচাই করা উচিত। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের ঘটনা এর আগেও সংবাদে এসেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মহিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।
ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।