
আদালতের অনুমতির পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক তৎকালীন মেজর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সোমবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
প্রসিকিউশনের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর হোসেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিষয়েও তথ্য রয়েছে।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মোজাফফর হোসেন জানিয়েছেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গুলি করেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (সাবেক) মতিউর রহমান।
জোহা আরও জানান, জিয়াউর রহমান হত্যার আগে ২৮ মে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়েছেন মোজাফফর।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ১৬ জুলাইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৫ জুলাই রাত ১০টা ১০ মিনিটে বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে জানানো হয়।
পরদিন ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের একটি দলের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে হাজির করার নির্দেশ দেন।
২৩ জুলাই তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক তৎকালীন মেজর মোজাফফর হোসেনকে (৭৭) দুই দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় ট্রাইব্যুনাল।
সেদিন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দুই দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সেনা হেফাজতেই থাকবেন এবং সুবিধাজনক সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মোজাফফর হোসেনের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য তদন্ত সংস্থা পেয়েছে। এ ছাড়া ১/১১-এর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা এবং অন্য কোনো বিষয়ে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা উদঘাটনেও তদন্ত চলছে।