
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। দ্রুত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর, কোরীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বাসস এ তথ্য জানিয়েছে।
পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশ-কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি দ্রুত চুক্তিটি স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করেন।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের জন্য কোরিয়ার বাজারে আরও সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চমূল্যের তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবা খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় বাংলাদেশি দক্ষ ও অর্ধদক্ষ কর্মীদের জন্য কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়াতে সহযোগিতা চান তিনি।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কোরিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করে হুমায়ুন কবির জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বৈঠকে নিয়মিত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকসহ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনে অব্যাহত সহযোগিতাও চাওয়া হয়।
অন্যদিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের প্রশিক্ষণে কোরিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত কোর্সে অংশ নিতে কোরীয় সামরিক সদস্যদের পাঠানোর প্রস্তাব দেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতায় কোরীয় বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান। কোরীয় পক্ষও প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ পারস্পরিকভাবে সম্মত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে।