
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বিতরণকেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে হুতিরা এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির ভাষ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা হয়। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীসহ এলাকার বিভিন্ন স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। হামলায় একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও পুরো বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
জোটের দাবি, ঘটনার পর পরিচালিত তদন্ত এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হামলায় হুতিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সৌদি জোট এটিকে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।
তবে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে গোষ্ঠীটির সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা সৌদি জোটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মক্কায় হুতিদের হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই সৌদি আরব নতুন এই অভিযোগ তুলেছে। হুতিদের এই বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মদিনার ঘটনার পাশাপাশি সৌদি জোট জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত এলাকায় হুতিদের ছোড়া কয়েকটি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এসব দাবির বিষয়ে হুতি পক্ষের পৃথক বক্তব্যের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে মদিনার ঘটনার সময়েই ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে হুতিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর লড়াই তীব্র হয়েছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের হামলা প্রতিহত করার সময় তাদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সংঘর্ষে হতাহতের এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাইজের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় হুতিরা গোলাবর্ষণ শুরু করে। সরকারি পক্ষ দাবি করেছে, শুধু একটি এলাকায় অন্তত ৩০ হুতি যোদ্ধা নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলার কথাও জানিয়েছে তারা।
লড়াই তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূতসহ বিভিন্ন পক্ষ সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের বাজেটে ২২ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল সহায়তার একটি কিস্তি অনুমোদন করা হয়েছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি এই সহায়তার জন্য সৌদি নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলের এই নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে।