1. dsdc.mostafiz@gmail.com : mrahman :
  2. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  3. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষঃ
সম্পত্তির অধিকার বঞ্চিত করতে তিন বোনের টিপসই, গ্রেপ্তারের দাবি নতুন আলুর চড়া দামের স্বপ্নে বিভোর জলঢাকার আলু চাষিরা ফেনীতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের মধ্যেই এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ মিষ্টির শূন্য সংরক্ষিত আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবারও এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওটিপি ছাড়া সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রাড্ডা কাণ্ড: পদত্যাগপত্র জমা দিলেন এমপি মিষ্টি এক দিনের সফরে ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতালে ক্রিস্টা পাইক

দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতালে ক্রিস্টা পাইক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি ক্রিস্টা গেইল পাইকের। ১৯৯৫ সালের একটি হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫০ বছর বয়সী পাইক ইনজেকশন দেওয়ার পরও জীবিত ছিলেন। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বুধবার রাতে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কারা কর্তৃপক্ষ দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করে। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও পাইকের নাক ডাকার শব্দ শোনা যায়। তার আইনজীবীরা পরে আদালতে জরুরি আবেদন করে জানান, তিনি অচেতন হলেও হৃদস্পন্দন চলছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

পাইকের আইনজীবীরা জানান, তাকে পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। তখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তারা জানতে পারেননি। টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, তারা রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় অনুমোদিত নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে।

ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রবিন মাহের ঘটনাটিকে নজিরবিহীন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে কয়েকটি ক্ষেত্রে শিরা খুঁজে না পাওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি; তবে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পর কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি জীবিত থাকার ঘটনা আগে দেখা যায়নি।

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রথমে বুধবার সকাল ১০টা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগে ইউএস সিক্সথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস ২-১ ভোটে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে। পাইকের শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তার সাজা নির্ধারণের সময় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনার জন্য আদালত সময় চেয়েছিল।

পরে টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দেয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা আদেশের কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে তিন বিচারপতি ভিন্নমত জানান এবং পাইকের দাবিগুলো আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল বলে মত দেন।

এরপর সন্ধ্যায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পাইককে একটি ট্রলিতে বেঁধে রাখা অবস্থায় দেখা যায়। তিনি তখন সচেতন ছিলেন এবং একপর্যায়ে নিজের হাতের অনুভূতি নিয়ে কারা কর্মকর্তাদের কাছে প্রশ্ন করেন। পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও তাকে শ্বাস নিতে ও নাক ডাকতে শোনা যায়।

ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ড বন্ধ ও চিকিৎসা দেওয়ার আবেদন করেন। তাদের দাবি, দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও তাকে জীবিত রাখা এবং এ অবস্থায় প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণার কারণ হয়েছে এবং নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তির বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রশ্ন তৈরি করেছে।

১৯৯৫ সালে নক্সভিলের একটি কর্মপ্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সহপাঠী ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে পাইক ও তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপ দোষী সাব্যস্ত হন। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর এবং শিপের বয়স ছিল ১৭। শিপকে প্যারোলে মুক্তির সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, আর এই মামলায় পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, পাইক ও শিপ স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে হত্যা করা হয় এবং তার শরীরে পেন্টাগ্রাম খোদাই করা হয়েছিল। ঘটনাটি ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া ‘সেটানিক প্যানিক’-এর আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

পাইক হত্যাকাণ্ডের দায় অস্বীকার করেননি। তবে তার আইনজীবী ও সমর্থকেরা যুক্তি দিয়ে আসছেন, অপরাধের সময় তার বয়স, মানসিক অসুস্থতা এবং শৈশবে যৌন নির্যাতনের ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। পাইকের পরবর্তী সময়ে বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার শনাক্ত হওয়ার কথাও আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে টেনেসিতে ২০০ বছরেরও বেশি সময় পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর দেশটিতে ১৮ জন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

এ বছর টেনেসিতে এটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হলেও তার শরীরে ইনজেকশনের জন্য উপযুক্ত শিরা খুঁজে না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়।

পাইককে হাসপাতালে নেওয়ার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করার ঘোষণা দেন এবং ঘটনাটি তদন্তে একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page