
উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের সিদ্ধান্ত দ্বিতীয়বারের মতো স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফি কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল বিচারক হেইউড গিলিয়াম এই আদেশ দিয়েছেন। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফি কার্যকরের আগে মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের একটি জোটের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে জুনে বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত ২০টি অঙ্গরাজ্যের করা পৃথক মামলায় ১ লাখ ডলারের ফি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। পরে জুলাইয়ে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালতও সেই স্থগিতাদেশ বহাল রাখে।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা প্রযুক্তি, চিকিৎসা, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিতে পারেন। এই কর্মসূচির আওতায় বছরে ৬৫ হাজার ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসার সুযোগ রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন এই ফি আরোপের ঘোষণা দেয়। এর আগে এইচ-১বি আবেদনের বিভিন্ন ফি মিলিয়ে নিয়োগকর্তাদের সাধারণত কয়েক হাজার ডলার ব্যয় হতো। প্রশাসন দাবি করেছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য বাড়তি ব্যয় আরোপ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ফি নিয়ে করা মামলাগুলোতে বাদীপক্ষের মূল যুক্তিগুলোর একটি হলো—প্রেসিডেন্ট এককভাবে এ ধরনের ফি নির্ধারণের ক্ষমতা রাখেন কি না এবং ফি আরোপের ক্ষেত্রে কংগ্রেস নির্ধারিত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের একটি স্থায়ী ফি চালুর প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে সেটিও নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে প্রস্তাবিত স্থায়ী ফি এবং বর্তমান মামলাগুলোর আইনি প্রশ্ন পুরোপুরি এক নয়।
মামলার বাদীদের পক্ষে আইনি লড়াই করা ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ড আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ হঠাৎ করে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করা একটি ব্যবস্থার বাস্তবায়ন আপাতত ঠেকিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ব্যবসায়িক সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্সও ১ লাখ ডলারের ফি চ্যালেঞ্জ করে পৃথক মামলা করেছে। ফলে এইচ-১বি ভিসার ফি নিয়ে আইনি লড়াই এখনো অব্যাহত রয়েছে।