
বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শূন্য আসনটি পূরণে উপনির্বাচন আয়োজন করা হবে।
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানিয়েছেন।
এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দপ্তরে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। বিকেলে সংসদ সচিবালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে তার পদত্যাগের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করে। সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসনটি শূন্য হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মিষ্টি তার দপ্তরে এসে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই আসনটি শূন্য হয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, শূন্য আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। কোনো আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আর একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।
তিনি আরও জানান, সংরক্ষিত আসনটি যে দল বা জোটের জন্য বরাদ্দ, উপনির্বাচনের মাধ্যমে সেই দল বা জোটের প্রার্থীই আসনটি পাবেন।
এদিকে মিষ্টির পদত্যাগের ফলে ভবিষ্যতে তার সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সংসদ থেকে পদত্যাগ করলেও পরবর্তী কোনো নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু এই পদত্যাগ অযোগ্যতার কারণ হবে না।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি একইসঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে না যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
মিষ্টির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিএনপির জন্য বরাদ্দ সংরক্ষিত নারী আসনগুলোর একটি শূন্য হলো। এখন নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ওই আসন পূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।