
চট্টগ্রামে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের একাধিক ঘটনায় আলোচনায় এসেছে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান (বড় সাজ্জাদ)-এর অনুসারী হিসেবে তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। সর্বশেষ একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার পর আবারও আলোচনায় আসে তার নাম।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই বিদেশি একটি নম্বর থেকে ডেভিড ইমন পরিচয়ে নগরীর একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়ায় ১৩ জুলাই দুপুরে নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুরের পাশাপাশি কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
পুলিশের দাবি, চট্টগ্রাম নগরী ছাড়াও রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত চাঁদাবাজি ও হামলার বেশ কয়েকটি ঘটনার নেপথ্যে বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা সক্রিয় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, আগে এই গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন ইমনের বিরুদ্ধে বাকলিয়ার জোড়া হত্যা মামলা, পতেঙ্গা এলাকায় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহার ও সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ আরও জানায়, ডেভিড ইমন পরিচয়ে এর আগেও বিভিন্ন ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক এবং এক সাংবাদিকের কাছেও ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া চাঁদা না পেয়ে গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির কয়েকটি ঘটনাতেও একই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, মোবারক হোসেন ইমন একজন পলাতক আসামি এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। কলটি সত্যিই ডেভিড ইমনের কিনা, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ইমনকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তার অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।