1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন

হিমালয়ের এক-চতুর্থাংশ হিমবাহ গলে গেছে, বাড়ছে বন্যা-ভূমিধসের ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত চার দশকে হিমালয় পর্বতমালার প্রায় এক-চতুর্থাংশ হিমবাহ গলে গেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে দ্রুত বরফ গলে যাওয়ায় বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

গবেষকদের মতে, হিমালয়জুড়ে উন্নয়নের নামে বনভূমি ধ্বংস, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পাহাড় কেটে সুড়ঙ্গ তৈরির মতো কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, দাবানল, বন্যা ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে নেপালের পার্বত্য এলাকাতেও। দেশটির উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে হিমবাহের বিশাল অংশ ভেঙে উপত্যকায় নেমে এলে মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি ও যানবাহন ভেসে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। দুর্যোগের পর নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে তা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নিউজিল্যান্ডের ভূতত্ত্ববিদ সিমন কক্স বলেন, এ ধরনের ঘটনায় পানির স্রোত এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যে কখনো কখনো তা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে কয়েক মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে যায়। পাশাপাশি ওপর থেকে কয়েক টন ওজনের পাথর গড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘ পথজুড়ে বড় ধরনের বিপদ তৈরি হয়। ফলে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

সিমন কক্সের মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পারমাফ্রস্ট বা স্থায়ীভাবে জমে থাকা মাটির বরফ গলে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে বরফ, মাটি ও পাথরের মতো বিভিন্ন উপাদান মিশে শক্তিশালী ও ঘন পানির স্রোত তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ গলার ঝুঁকি দিন দিন গুরুতর হচ্ছে। পারমাফ্রস্ট গলে গেলে পাহাড়ের শিলাস্তরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে ভূমিধসের গতি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ধরনের প্রবল স্রোত ও ধসের পথে থাকা প্রায় সবকিছুই ভাসিয়ে বা ধ্বংস করে দিতে পারে।

২০১৯ সালের একটি গবেষণাতেও তুষারধসের কারণে হিমবাহ ভেঙে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। ওই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত চার দশকে হিমালয়ের হিমবাহগুলোর প্রায় এক-চতুর্থাংশ গলে গেছে।

গবেষকরা বলছেন, হিমালয়জুড়ে বনভূমি ধ্বংস, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পাহাড় কেটে সুড়ঙ্গ খননের মতো কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা না হলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়বে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page