পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে যাত্রীচাপ বাড়তে শুরু করেছে। এ চাপ সামাল দিতে আগামী ২৫ মে থেকে ঈদের বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে।
রোববার (১৭ মে) থেকে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর কেবিন টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকবে ২৬ ও ২৭ মে। এ সময় যাত্রীচাপ বাড়লে অতিরিক্ত লঞ্চও চালানো হতে পারে।
অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী জানান, ঈদযাত্রায় সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করা হবে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের মৌসুম হওয়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ছোট নৌকায় যাত্রী পারাপারের মাধ্যমে লঞ্চে ওঠানোর বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।
এদিকে বিভিন্ন লঞ্চ কোম্পানির বুকিং কাউন্টারে আগেভাগেই যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এমভি সুন্দরবন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহ থেকেই আগ্রহী যাত্রীদের নাম তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে এবং এখন আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২৬ ও ২৭ মে’র যাত্রার জন্য চাহিদা বেশি।
সুরভী লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ২৪ ও ২৬ মে বিশেষ সার্ভিস চলবে। কেবিন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে—সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা।
নৌপরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদে চাপ কিছুটা কম হলেও ২৫ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত যাত্রী ভিড় বাড়বে। ঈদের পরবর্তী কয়েকদিন রাজধানীমুখী যাত্রীচাপও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নৌযাত্রী অধিকারকর্মীরা যাত্রীসেবার মান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়