বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা-র মেয়াদ শেষ হচ্ছে। শনিবার (১৬ মে) ঢাকায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও বিদায় নেন এই কূটনীতিক।
জানা গেছে, আগামী ২৮ মে তিনি ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারতের সাবেক মন্ত্রী ও বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা দীনেশ ত্রিবেদী-কে নিয়োগ দিয়েছে ভারত সরকার।
বিদায়ী উপলক্ষে রাজধানীর ইন্ডিয়া হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি ও উভয় দেশের মানুষের কল্যাণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি কিংবদন্তি শিল্পী শচীন দেব বর্মণ-এর জনপ্রিয় গান ‘শোনো গো দখিন হাওয়া, প্রেম করেছি আমি’সহ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও আন্তরিক পরিবেশে ভরপুর।
এসময় তার সহধর্মিণী মনু ভার্মা অতিথিদের জন্য নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করেন। আম ও আলুভিত্তিক কয়েকটি পদ অতিথিদের মধ্যে বিশেষ প্রশংসা পায়।
এদিকে, নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি আগামী জুনে ঢাকায় আসতে পারেন বলে জানা গেছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে দিল্লি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। গত দেড় বছরে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হলেও, তা পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী ভারত সরকার। এ কারণেই পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা ভাষায় সাবলীল এবং দুই বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদীর জন্ম নয়াদিল্লিতে। তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।
রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু কংগ্রেসের মাধ্যমে। পরে জনতা দলে যোগ দেন এবং ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে তিনি সেই দলে যোগ দেন।
২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ভারতের রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও পান তিনি।
তবে পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দল থেকে পদত্যাগ করে মার্চে বিজেপিতে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়