‘ডিজিটাল জীবনধারা, সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারও দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৬ পালিত হচ্ছে। তবে উদযাপনের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল সেবার বাস্তব চিত্রে এখনো নানা সীমাবদ্ধতা ও বৈষম্য রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫৩.৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। অর্থাৎ প্রায় ৯ কোটি ৯১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় থাকলেও এখনও ৪১.৬ শতাংশ মানুষ এই সেবার বাইরে।
জরিপে আরও দেখা যায়, শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় ব্যবধান রয়েছে। শহরে ব্যবহারকারীর হার ৭৫.৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩.৬ শতাংশ। এই বৈষম্যকে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার ৮৮.৪ শতাংশ হলেও ব্যক্তিগত মোবাইল রয়েছে ৬৪.৪ শতাংশ মানুষের। এছাড়া ৪৩.৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, উচ্চ খরচের কারণে তারা নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না।
টেলিযোগাযোগ খাতে সেবার মান নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, গত এক বছরে ১১ হাজার ৪২৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ছিল সেবার মান (কোয়ালিটি অব সার্ভিস) নিয়ে। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি অভিযোগ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
গ্রাহক সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও অবকাঠামো সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি। বর্তমানে দেশে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ হলেও টেলিকম টাওয়ার রয়েছে ৪৬ হাজারের কিছু বেশি এবং প্রায় ৯৮ হাজার বিটিএস চালু রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারী বাড়লেও অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সমান হারে না বাড়ায় ইন্টারনেটের গতি, কল ড্রপ ও সেবার মানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সরকার ও বিটিআরসি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সেমিনার, রচনা প্রতিযোগিতা, স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন এবং টেলিকম মেলা। এসব আয়োজনের লক্ষ্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং একটি সংযুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়