তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকলেও নদীকেন্দ্রিক বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি Bangladesh। বরং ভারতের অনীহার প্রেক্ষাপটে চীনের সহায়তায় তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নতুন করে গতি পেয়েছে।
‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (টিআরসিএমআরপি) নামে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের এই উদ্যোগ এখন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে India ও China–এর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত প্রায় সবকিছু চূড়ান্ত করলেও ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। এরপর থেকেই উত্তরাঞ্চলের নদীভিত্তিক উন্নয়ন ও পানির প্রবাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চীনের প্রতিষ্ঠান China Power–এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালে এটি পুনরায় নবায়ন করা হয়।
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুরো প্রকল্পে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পে সহযোগিতা চেয়েছেন। চীনও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ তিস্তা নদী ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরের কাছাকাছি, যা ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত লি জিমিং আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, প্রকল্পটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় এর বাস্তবায়ন সহজ হবে না এবং আন্তর্জাতিক চাপও তৈরি হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পে রয়েছে—
সাবেক কূটনীতিকদের মতে, পানিবণ্টন চুক্তি ছাড়া প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন। কারণ পানির মূল প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ভারতের ওপর নির্ভরশীল। তাই অনেকের মতে, আগে তিস্তা চুক্তি হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হতো।
অন্যদিকে কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, বাংলাদেশ–ভারত–চীন—তিন পক্ষের সমন্বয় ছাড়া প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে সফল করা কঠিন হতে পারে।
সব মিলিয়ে তিস্তা প্রকল্প এখন আর শুধু একটি নদী উন্নয়ন উদ্যোগ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়