1. adm3ijmpg@example.com : adm3ijmpg :
  2. adm53gqu5@example.com : adm53gqu5 :
  3. admg4o2lv@example.com : admg4o2lv :
  4. admiztuem@example.com : admiztuem :
  5. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  6. info@www.media71bd.com : TV :
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

এআই ক্যামেরায় কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও রাজধানীর সড়কে পুরোপুরি কমেনি বিশৃঙ্খলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে এআই ক্যামেরা ও ডিমেরিট পয়েন্ট ব্যবস্থা চালুর পর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি লেন ভাঙা, সিগন্যাল অমান্য ও যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামার প্রবণতা। সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নয়, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও বাংলামোটর এলাকায় দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা তুলনামূলকভাবে নিয়ম মেনে চললেও গণপরিবহন ও ছোট যানবাহনের একটি অংশ এখনও ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করছে। বিভিন্ন স্থানে উল্টো পথে চলাচল, সিগন্যাল অমান্য এবং নির্ধারিত স্থানের বাইরে যাত্রী ওঠানামার ঘটনা দেখা গেছে।

দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে বাংলামোটর ক্রসিংয়ে এআই ক্যামেরা সক্রিয় থাকার পরও কয়েকটি মোটরসাইকেল নির্ধারিত ইউলুপ ব্যবহার না করে সরাসরি ক্রসিং অতিক্রম করে হাতিরপুলের দিকে চলে যায়। কিছু সময়ের ব্যবধানে আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল একইভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রাফিক সদস্যরা সরাসরি বাধা না দিলেও বিষয়টি পথচারীদের নজরে আসে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এআই ক্যামেরা লালবাতি অমান্য, জেব্রা ক্রসিংয়ে গাড়ি থামানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, উল্টো পথে চলা, সিটবেল্ট না পরা এবং কাগজপত্রে অনিয়ম শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা তৈরি করছে। তবুও কিছু চালকের আচরণে এখনও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।

বাংলামোটর ক্রসিংয়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্য বিভাষ জানান, ক্যামেরা চালুর পর যান চলাচলে শৃঙ্খলা কিছুটা বেড়েছে। আগে যেখানে বিভিন্ন দিক দিয়ে যানবাহন প্রবেশ করত, এখন সেই প্রবণতা কমেছে। তবে বাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার একটি অংশ এখনও নিয়ম মানছে না।

কারওয়ান বাজার-সোনারগাঁও ক্রসিংয়ে দুপুরের দিকে সিগন্যাল ব্যবস্থা সচল থাকলেও যানবাহনের চাপ ছিল বেশি। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা হাতের সংকেতের মাধ্যমে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। একই সময়ে কিছু বাসকে নির্ধারিত লেন না মেনে হঠাৎ থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে এবং কয়েকটি মোটরসাইকেলকে সিগন্যাল পরিবর্তনের আগেই ক্রসিং পার হতে দেখা যায়।

দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. সারোয়ার বলেন, এআই ক্যামেরা স্থাপন হলেও মাঠপর্যায়ে ট্রাফিক সদস্যদের দায়িত্ব আগের মতোই রয়েছে। তার ভাষ্য, যানবাহন থামার প্রবণতা বেড়েছে, যা ইতিবাচক পরিবর্তন। তবে এখনও কিছু চালক অসচেতন আচরণ করছেন।

পথচারী ওয়ালিউল সাকিব বলেন, আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে সিগন্যাল মানার প্রবণতা বেড়েছে। তবে অটোরিকশা নিয়ে এখনও সমস্যা রয়ে গেছে।

মোহাম্মদপুর আসাদগেট-সংসদ ভবন সড়কে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও একাধিক অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। চালকদের কেউ কেউ জরুরি প্রয়োজনের কথা বললেও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাফিক সদস্য বলেন, অটোরিকশা প্রধান সড়কে উঠতে না দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অনেক সময় চালকরা দ্রুতগতিতে ঢুকে পড়েন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি বিবেচনায় নমনীয় থাকতে হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাণহানি বেড়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮ হাজার ৫৪৩ জন এবং ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১০১ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, কঠোর শাস্তির কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। তিনি সড়ক আইন পর্যালোচনা ও কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআরআই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুন নেওয়াজ মনে করেন, প্রযুক্তির পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। চালক প্রশিক্ষণ, ফ্লিট ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক প্রকৌশল উন্নয়ন সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ডিমেরিট পয়েন্ট পদ্ধতি চালু করেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকবে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে পয়েন্ট কাটা হবে এবং সব পয়েন্ট শেষ হলে লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

বিআরটিএর পরিচালক মীর আহামেদ তরিকুল ওমর বলেন, লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি চালকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করবে এবং আইন মানার প্রবণতা বাড়াবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালকদের আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। প্রযুক্তির সহায়তায় ডিমেরিট পয়েন্ট ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের বেশি চালকের পয়েন্ট কাটা হচ্ছে। মোট ১৩ ধরনের অপরাধে পয়েন্ট কর্তনের বিধান রয়েছে। এর মধ্যে সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে চলা, অতিরিক্ত গতি এবং অবৈধ পার্কিং উল্লেখযোগ্য। তবে ছয় মাস কোনো অনিয়ম না করলে দুই পয়েন্ট ফেরত পাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর সড়কে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!