নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ এক পরিবারের গৃহকর্তা আব্দুল কাদির মারা গেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, আব্দুল কাদিরের শরীরের ৫৭ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে তার তিন ছেলে—মেহেদী, সাকিব ও রাকিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মেহেদীর শরীরের ১৮ শতাংশ, সাকিবের ১৭ শতাংশ এবং রাকিবের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাদের শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনজনের অবস্থাই গুরুতর।
গত সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট সংলগ্ন কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় দগ্ধ হন আব্দুল কাদির ও তার তিন ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক জানান, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ জেগে ওঠেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির দরজা-জানালা ভেঙে গেছে এবং ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা বের হয়ে আসছেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাস অথবা ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিত কারণ জানা যায়নি।
জানা গেছে, পরিবারের গ্রামের বাড়ি মতলব উপজেলায়। আব্দুল কাদির পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। তার ছেলে মেহেদী হালিম বিক্রি করতেন, সাকিব একটি কারখানায় কাজ করতেন এবং রাকিব চটপটি বিক্রি করতেন।
ঘটনার সময় বাবা ও তিন ছেলে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরিবারের মা রান্নার কাজের জন্য বাইরে পানি আনতে গিয়েছিলেন। ফলে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়