1. adm3ijmpg@example.com : adm3ijmpg :
  2. adm53gqu5@example.com : adm53gqu5 :
  3. admg4o2lv@example.com : admg4o2lv :
  4. admiztuem@example.com : admiztuem :
  5. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  6. info@www.media71bd.com : TV :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

ইসলামে রাগ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব ও করণীয়

লাইফ স্টাইল ডেস্ক
  • Update Time : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

রাগ মানুষের একটি নেতিবাচক স্বভাব, যা ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজে অশান্তির সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত রাগ মানুষের বিবেকবোধ দুর্বল করে দেয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল করায় এবং অনেক সময় মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে। এ কারণেই ইসলামে রাগ নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাগ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব

যারা রাগের সময় নিজেদের সংযত রাখতে পারেন, তারা আল্লাহতায়ালার প্রিয় বান্দা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন—

“আর যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় ব্যয় করে, ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।”
— (সুরা আলে ইমরান : ১৩৪)

রাগ নিয়ন্ত্রণ করা উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক। ইসলামে এটিকে প্রকৃত বীরত্ব হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মহানবী Muhammad বলেছেন—

“প্রকৃত বীর সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং প্রকৃত বীর হলো সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।”
— (সহিহ বোখারি : ৫৬৮৪)

আরেক হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উপদেশ চাইলে তিনি বারবার বলেন—

“তুমি রাগ করো না।”
— (সহিহ বোখারি : ৮/১৩৭)

এ থেকে বোঝা যায়, রাগ নিয়ন্ত্রণ করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

রাগের ক্ষতিকর দিক

অতিরিক্ত রাগ মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করে, অশান্তি সৃষ্টি করে এবং অনেক সময় বড় ধরনের অনুতাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হাদিসে সতর্ক করে বলা হয়েছে—

“অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকারী ও উগ্র মেজাজের ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”
— (আবু দাউদ : ৪১৬৮)

তাই রাগ দমন করা শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়, বরং আখিরাতের সফলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

রাগ নিয়ন্ত্রণের উপায়

রাগ কমানোর জন্য ইসলামে কিছু কার্যকর পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে—

১. অজু করা
রাগ উঠলে অজু করলে মন শান্ত হয় এবং উত্তেজনা কমে যায়।

২. চুপ থাকা
রাগের সময় অপ্রয়োজনীয় কথা, তর্ক বা কঠোর ভাষা এড়িয়ে নীরব থাকা উত্তম।

৩. অবস্থান পরিবর্তন করা
দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়া, বসে থাকলে শুয়ে পড়া—এতে রাগের তীব্রতা কমে।

৪. অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়া
রাগের কারণ থেকে মন সরিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত হলে ধীরে ধীরে রাগ প্রশমিত হয়।

৫. ক্ষমার মানসিকতা গড়ে তোলা
ক্ষমা মানুষের হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং সম্পর্ক সুন্দর রাখে।

৬. দোয়া পড়া
রাগের সময় পড়তে বলা হয়েছে—

“আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম”
অর্থাৎ, “আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”

রাগ মানুষের ইহকাল ও পরকাল—উভয় জীবনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী ধৈর্য, সংযম ও ক্ষমাশীলতা চর্চা করা জরুরি। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!