1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন

তারেক রহমানকে দিল্লি নিতে জোরালো চেষ্টা ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরে নিতে জোরালোভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই দিল্লির এই উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এখনো ভারত সফরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

চলতি মাসের শুরুতে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই ই-মেইলে জানানো হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি ভবনে সাপ্তাহিক ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। কারণ সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে।

তবে সমস্যা দেখা দেয় অন্য জায়গায়। তখন পর্যন্ত তারেক রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই ই-মেইল প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপরও সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জল্পনা আরও জোরালো হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএম সালেহ বিবিসিকে বলেন, ‘সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

তারেক রহমানের দিল্লি সফর হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে ভারতে তার প্রথম সফর। গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল বিজয় পাওয়ার পর তিনি সরকার গঠন করেন।

হাসিনার অবস্থান নিয়ে অস্বস্তি

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তার সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে।

এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ দেখছে দিল্লি। তবে এই প্রক্রিয়ার অন্যতম বড় বাধা হয়ে আছে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান।

বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তবে শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএম সালেহ বলেন, ‘আমরা একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছি এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দ্রুত করার বিষয়ে ভারতীয় পক্ষের জবাবের অপেক্ষায় আছি।’

ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধটি তারা বিবেচনা করছে।

সম্পর্ক উন্নয়নে দিল্লির তৎপরতা

শেখ হাসিনার বিষয়টি থাকলেও নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারত একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই তাকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ এবং ‘স্মরণীয় স্বাগত’ জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, ‘আমার ধারণা, দিল্লিতে কিছুটা হতাশা রয়েছে।’ তার মতে, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করা ছাড়া ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে ভারত বেশ কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ এবং চিকিৎসা ভিসাসহ বিভিন্ন তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে ভারত উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য সহজ করার জন্য কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাও পুনরায় চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। দুই দেশের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতিরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল, যার বড় অংশই ভারতের অনুকূলে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দুই দেশ সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ বাড়িয়েছে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।

তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশে ক্রমেই বিতর্কিত হয়ে ওঠে। সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগকে উপেক্ষা করে দিল্লি হাসিনা সরকারের প্রতি সমর্থন দিয়ে গেছে। ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান সেই অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।

গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার বিদেশি সংবাদদাতাদের একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নিজের সমর্থকদের দমন করার অভিযোগ তোলেন।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জানায়, ওই অনুষ্ঠানে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যকে তারা সমর্থন করে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার আগে তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

তার ভাষায়, ‘এটি আসলে বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে সত্যিই আন্তরিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’

পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও দিল্লির উদ্বেগ

ভারতের উদ্বেগের আরেকটি কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক সফর হয়েছে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে।

চলতি মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তিও বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। চুক্তিতে কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির চলতি সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে আমাদের তাতে অংশ নেওয়ার কথা বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়।’

সৌদি আরবও তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশকে মক্কা চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, এ ধরনের কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সতর্ক হওয়া উচিত। তার মতে, বিষয়টি শুধু ভারতকে বিরোধিতা করার নয়; পরিস্থিতি কোন দিকে যায় এবং তা বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার সময়কার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জায়গা থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দিল্লি যেমন ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী, তেমনি তারেক রহমানের সরকারও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি যে ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল নয়, সেটি তুলে ধরতে চাইছে।

অধ্যাপক ইয়াসমিনের মতে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে তারেক রহমানের দিল্লি সফর করা উচিত। তার ভাষায়, ‘প্রতিবেশীদের একসঙ্গে বসবাস করতেই হয়।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page