
যশোরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোহেল (২৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে জেলায় ডেঙ্গুতে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। রোববার (৫ জুলাই) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
সোহেল যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া মডেল কলেজ এলাকার সৌদিপ্রবাসী জুয়েল হোসেনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে তিনি তীব্র জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে স্বজনরা তাকে প্রথমে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোহেল ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বর্তমানে আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। তাই জ্বর বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি তিনি জেলাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব জানান, সোহেল প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। প্রথমে তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও হাসপাতালে ভর্তি হতে দেরি হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং সেখান থেকে ঢাকায় রেফার করা হয়।
এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে নতুন করে আরও ৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জন।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন এবং বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন ভর্তি আছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যশোর জেলায় মোট ১৬২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৪ জন সুস্থ হয়েছেন এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।