উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে তৃতীয়বারের মতো আমরণ অনশনে বসেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাকিব মিয়া। রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তিনি অনশন শুরু করেন।
এক দিন পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি বলে অভিযোগ করেছেন সাকিব। এর আগে গত ৫ মে ও ১৬ মে একই দাবিতে তিনি আমরণ অনশন করেছিলেন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও অনশনে বসেছেন বলে জানান তিনি।
সাকিব মিয়া দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় ছয় বিষয়ে অকৃতকার্য হন। তার অভিযোগ, এর মধ্যে পাঁচটি বিষয়ে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফেল করানো হয়েছে। তাই তিনি ওই পাঁচ বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
সাকিবের দাবি, আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। তার ভাষ্য, আন্দোলনের সময় ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভাগের এক শিক্ষক তাকে বিভিন্ন বিষয়ে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১ জুলাই বিভাগের শিক্ষকরা তাকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের কোনো বিধান নেই। পাশাপাশি তাকে ১৩তম ব্যাচের সঙ্গে পুনরায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ধীমান কুমার রায় বলেন, সাকিবের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, অনশনরত শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুইজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রক্টর দপ্তর থেকে নিয়মিত তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত সাকিব মেনে নিচ্ছেন না।