1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

অপরিশোধিত তেলের সংকটে বন্ধ ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল ইউনিট

লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটে পড়ে পরিশোধন কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। গত রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির মূল প্ল্যান্ট ‘ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ)’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত তেলের নতুন চালান না আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরএলের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নতুন করে ক্রুড অয়েলের আমদানি না হওয়া পর্যন্ত প্ল্যান্ট পুনরায় চালুর কোনো সম্ভাবনা নেই। এমনকি আগামী ১০ মে’র আগে কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও খুবই কম বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “ক্রুড প্রসেসিং ইউনিট আপাতত বন্ধ রয়েছে, কারণ পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল মজুদ নেই। তবে পুরো রিফাইনারি কার্যক্রম বন্ধ—এমন তথ্য সঠিক নয়। সীমিত পরিসরে এলপি গ্যাস, পেট্রোল এবং বিটুমিন উৎপাদন এখনও চালু আছে।”

জানা গেছে, মূল ইউনিট বন্ধ থাকায় ইআরএলের উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাধারণত এই সিডিইউ ইউনিট থেকেই অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও কিছুটা চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা—যেখানে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতি বিরাজ করছে—এর প্রভাব সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে পড়েছে। ফলে গত প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে সর্বশেষ অপরিশোধিত তেলের চালান এসেছে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর আর কোনো নতুন চালান পৌঁছায়নি। বর্তমানে নতুন চালান আসার সম্ভাব্য সময় হিসেবে মে মাসের শুরুর দিক নির্দেশ করা হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সময়সূচিও পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ অবস্থায় ইআরএল কর্তৃপক্ষ রিফাইনারির বন্ধ থাকা ইউনিটে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই সময়টিকে তারা প্ল্যান্টের প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রযুক্তিগত আপডেটের কাজে ব্যবহার করছেন, যাতে পুনরায় চালু হলে উৎপাদন কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা যায়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে মোকাবিলার জন্য দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ শোধন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, ইআরএলের কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক বড় কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা আশ্বস্ত করেছেন। কারণ, সরকারি মজুদ এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি দিয়ে আপাতত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে এ সংকট অব্যাহত থাকলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে দ্রুত নতুন চালান নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সব মিলিয়ে, অপরিশোধিত তেলের সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!