1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

পাবলিক পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথা বাতিল, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে নতুন যুগের সূচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলো সরকার। দীর্ঘদিন ধরে পাবলিক পরীক্ষায় প্রচলিত ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেল প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষাব্যবস্থার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাবলিক পরীক্ষার নীতিমালার ২৯ নম্বর ধারা আর কার্যকর থাকবে না। এর ফলে আগামীতে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে ‘নীরব বহিষ্কার’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে না। বিষয়টি নিশ্চিত করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, ইতোমধ্যেই এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর নীতিমালা থেকে এই ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনার পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। একই দিন আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই বিতর্কিত প্রথা বাতিলের নির্দেশ দেন। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা এই ব্যবস্থা বর্তমান সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ সৃষ্টি করছিল।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পুরোনো ও অপ্রাসঙ্গিক একটি নীতিমালার কারণে শিক্ষার্থীরা অযথা ভীতি ও চাপের মধ্যে থাকত। বর্তমান সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ খুবই সীমিত। তাই এমন কঠোর ও অদৃশ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আর নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৬১ সালের পুরোনো নীতিমালার ভিত্তিতে এই প্রথা চালু থাকলেও ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে এর কোনো উল্লেখ নেই। ফলে এটি আইনি ও বাস্তবতার দিক থেকেও সময়োপযোগী ছিল না।

‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথা মূলত এমন একটি ব্যবস্থা ছিল, যেখানে পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো শিক্ষার্থীকে সরাসরি বহিষ্কার না করেই তাকে পরীক্ষার বাইরে রাখা হতো বা তার খাতা মূল্যায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বুঝতেই পারত না যে তারা কার্যত বহিষ্কৃত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপ তৈরি হতো বলে অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের।

এই প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও মানবিক ও সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তারা বলছেন, কঠোর শাস্তির পরিবর্তে সচেতনতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষা পরিচালনা করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অবশ্যই জরুরি, তবে তা যেন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে। নতুন সিদ্ধান্ত সেই ভারসাম্য রক্ষার একটি প্রচেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ভীতি নয়, বরং আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘নীরব বহিষ্কার’ বাতিল হলেও পরীক্ষা শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কী ধরনের নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি জোরদার করা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং পরীক্ষার নিয়ম-কানুন আরও স্পষ্টভাবে বাস্তবায়ন করা।

অভিভাবকরাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনেক সময় শিক্ষার্থীরা অজান্তেই ছোটখাটো ভুল করে বসে, যার জন্য ‘নীরব বহিষ্কার’-এর মতো কঠোর শাস্তি পাওয়া ছিল অন্যায্য। নতুন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ তৈরি করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সার্বিকভাবে, পাবলিক পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিকল্প ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং তা পরীক্ষার সার্বিক মান ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কতটা সহায়ক হয়।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!