সারাদেশে আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পাবলিক পরীক্ষায় এবার অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে এবারের আয়োজনও বড় পরিসরের।
পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর পরীক্ষায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় সমান। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র রয়েছে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। এ থেকে বোঝা যায়, শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা ক্রমেই শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষার উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এ বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন। এর পরেই রয়েছে দিনাজপুর বোর্ড, যেখানে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৪ জন শিক্ষার্থী। রাজশাহী বোর্ডে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৯ জন।
এছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৭ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯ জন এবং চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে বরিশাল বোর্ডে ৮১ হাজার ৮৩১ জন, সিলেট বোর্ডে ৮৯ হাজার ৪২১ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৫৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন এবং ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র রয়েছে ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় এখনও শিক্ষার্থীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতিও আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নানা ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্নফাঁস রোধ, নকল প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারি থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও মাঠে সক্রিয় থাকবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের সময়মতো কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া এবং নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পরীক্ষার ফলাফল তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও ক্যারিয়ার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা সন্তানদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করেন এবং অযথা চাপ সৃষ্টি না করেন। একটি স্বাভাবিক ও সহায়ক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবমিলিয়ে, দেশের বৃহৎ এই পাবলিক পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্বেগ কাজ করছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়