জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম সমন্বয়ের পর এবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমাতে পাইকারি পর্যায়ে তিনটি ক্যাটাগরিতে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে করে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়ে দাঁড়াতে পারে ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা ২৪ পয়সা। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে নিম্নআয়ের গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য আপাতত দাম না বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো কিছুটা সুরক্ষা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের বিদ্যুৎ খাতে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। সম্প্রতি ডিজেল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধির পরপরই এলপিজির দামও বাড়ানো হয়। এর পাশাপাশি ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে নীতিনির্ধারকরা।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির দায় এখন সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে। তাদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং বিপুল অঙ্কের ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধের কারণে খাতটিতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ না কিনলেও কেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। এমনকি কিছু কেন্দ্র বন্ধ থাকলেও দেখানো হচ্ছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুৎ নিতে পারছে না। এর ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের দামে প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে খুচরা পর্যায়ে গড়ে ৮.৫০ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫.০৭ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। নতুন করে দাম সমন্বয়ের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা ভোক্তাদের ব্যয়ের ওপর আরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়