দীর্ঘ সময়ের শাসন-শোষণের পর দেশে জনগণের ভোটে জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ তাদের হারানো রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার যেন তা কেড়ে নিতে না পারে, সে লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ই-বেইলবন্ড পদ্ধতির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডাঃ জুবাইদা রহমান এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এদিন বগুড়াসহ সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড পদ্ধতি চালু হয় এবং আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনেরও উদ্বোধন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ছাড়া ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সামাজিক ভারসাম্য ও নাগরিক অধিকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অতীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তবে পরবর্তী সময়ে বিচারব্যবস্থাকে দলীয় প্রভাবের আওতায় আনা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর জানিয়ে তিনি বলেন, আদালত যেন হয়রানির জায়গা না হয়ে মানুষের আস্থার স্থান হয়ে ওঠে—এটাই লক্ষ্য। এতে সমাজে সহিংসতা কমবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়াকে ধীরে ধীরে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ই-বেইলবন্ড পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যা দেশের সব আদালতে পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে বহু ধাপ পেরোতে হতো। এখন ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে অল্প সময়েই জামিন আদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, ফলে ভোগান্তি কমছে।
তিনি জানান, বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ায় এ পদ্ধতি চালু হয়েছে। এর ফলে জামিনপ্রাপ্তদের মুক্তিতে বিলম্ব কমবে এবং জালিয়াতির সুযোগও হ্রাস পাবে।
এছাড়া ই-বেইলবন্ডকে পুলিশের তথ্যব্যবস্থা, আদালতের মামলা ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় পরিচয় যাচাই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিচারব্যবস্থাকে পুরোপুরি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনলাইনে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট, রিলিজ অর্ডার এবং ওয়ারেন্ট প্রত্যাহারের কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির পাশাপাশি মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান।
এ সময় তিনি বলেন, ন্যায়বিচার কোনো দয়া নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।
কারাগারে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বন্দি অর্থাভাবে বা আইনজীবী না পাওয়ায় দীর্ঘদিন আটক রয়েছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: বাসস
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়