1. dsdc.mostafiz@gmail.com : mrahman :
  2. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  3. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষঃ
হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণ, চার তেলবাহী জাহাজে আগুন দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ১১০৮ টাকা আমের খোসা থেকে চা তৈরি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন তরুণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থানের ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেল ‘দুর্বৃত্ত ছাড়া সবাই নিরাপদ’, চরফ্যাশনে যুব সমাবেশে নূরুল ইসলাম নয়ন ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ২০ শরীফুলের আঘাতে ফিরলেন চন্দরপল, চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইকের রানওয়েতে বাংলাদেশের রাকিব এআইয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে শ্রেণিকক্ষে ফিরছে খাতা-কলম, বদলাচ্ছে পাঠদান পদ্ধতি তাহসিফ সাউরী নিখোঁজের ঘটনায় বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই

সড়ক আইন কি শুধু মোটরসাইকেলের জন্য? বৈষম্য নয়, চাই সবার জন্য সমান প্রয়োগ

মোঃ এম রহমান
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে আইন প্রয়োগ জরুরি। তবে সেই প্রয়োগ যদি একশ্রেণির যানবাহনকে ঘিরেই বেশি দৃশ্যমান হয়, আর অন্যদিকে অননুমোদিত যানবাহন অবাধে চলাচল করে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—আইন প্রয়োগে কি ভারসাম্য রয়েছে?

বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরযান আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই। চালকের বৈধ লাইসেন্স, গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস, হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক সংকেত মেনে চলা—এসবই নিরাপদ সড়কের অপরিহার্য শর্ত। কিন্তু আইন মানার দায়িত্ব যেমন সবার, তেমনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট স্থাপন এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তৎপরতা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ খরচে মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশনা এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে অভিযান—এসব উদ্যোগের পেছনে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তি থাকতে পারে। নিরাপদ হেলমেট ব্যবহার ও যানবাহন শনাক্তকরণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব নিয়ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময়সীমা, ব্যয় এবং বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশ্ন হলো, মোটরযান আইন কি শুধু মোটরসাইকেলের জন্য? নিশ্চয়ই নয়। সড়কে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহনই প্রযোজ্য আইন, বিধি ও নিরাপত্তার নিয়ম মানতে বাধ্য। তাহলে ট্রাফিক পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক বলে মনে হয় কেন? মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চলার সময় ব্যাপক তল্লাশি ও জরিমানার খবর পাওয়া গেলেও অন্যান্য যানবাহনের অনিয়মের বিরুদ্ধে একই মাত্রার কার্যক্রম সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এখানে স্পষ্ট করা প্রয়োজন, মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ করার দাবি নয়; বরং একই সঙ্গে অন্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও আইন সমানভাবে প্রয়োগের দাবি। কোনো মোটরসাইকেল চালক হেলমেট ছাড়া চললে, বৈধ কাগজপত্র না থাকলে কিংবা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই যুক্তিসংগত। কিন্তু একই সড়কে অন্য কোনো যানবাহন নিয়ম ভেঙে চলাচল করলে সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও সমান জরুরি।

বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী অননুমোদিত বা আইনবহির্ভূত মোটরচালিত অটোরিকশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। এসব যানবাহনের কিছু প্রধান সড়কে চলাচল করে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হওয়া, স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শিকার হওয়া কিংবা প্রাণহানির মতো ঘটনাও জননিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে।

তবে সব অটোরিকশাকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অনুমোদনহীন, অনুপযুক্ত বা নিষিদ্ধ সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ারও কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। কোন যানবাহন বৈধ, কোনটি অননুমোদিত এবং কোন সড়কে কোন ধরনের যান চলতে পারবে—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।

মোটরসাইকেল চালকদের অনেকেই নিয়মিত কর ও প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করে নিবন্ধন, লাইসেন্সসহ বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সড়কে চলাচল করেন। তাঁদেরও দায়িত্বশীলভাবে আইন মানতে হবে। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও যদি তাঁরা বারবার তল্লাশি ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন, আর অন্যদিকে অনিয়মকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার ধারণা তৈরি হয়, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাফিক পুলিশের অভিযান কোথায়, কোন অপরাধে এবং কী ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে—এ বিষয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অননুমোদিত যানবাহন শনাক্ত, চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, সড়কে দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনাও প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ট্রাফিক পুলিশ, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বাজারে নিম্নমানের হেলমেট বিক্রি বন্ধ করা, অনুমোদনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সব শ্রেণির চালকের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কর্তৃপক্ষের কাছে তাই কয়েকটি প্রশ্ন রাখা জরুরি—মোটরসাইকেলের নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, অন্যান্য যানবাহনের অনিয়মের বিরুদ্ধেও কি একইভাবে অভিযান চলছে? প্রধান সড়কে চলাচলকারী অননুমোদিত মোটরচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিকল্পনা কী? দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করা যানবাহন শনাক্ত ও অপসারণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? আর আইন প্রয়োগে বৈষম্য বা হয়রানির অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করার ব্যবস্থা কোথায়?

সড়ক নিরাপত্তা কোনো এক শ্রেণির চালকের একক দায়িত্ব নয়। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক, অটোরিকশা—সব যানবাহনের চালক ও মালিককে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আইন মানতে হবে। একইভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য যদি সত্যিই দুর্ঘটনা কমানো এবং মানুষের জীবন রক্ষা করা হয়, তাহলে অভিযান হতে হবে অপরাধ ও ঝুঁকির ভিত্তিতে—কোনো নির্দিষ্ট যানবাহনকে কেন্দ্র করে নয়। বৈধ মোটরসাইকেল চালককে অযথা হয়রানি করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি অননুমোদিত বা ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনকে ছাড় দেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত নয়। প্রয়োজন এমন একটি সড়কব্যবস্থা, যেখানে আইন সবার জন্য সমান, প্রয়োগে স্বচ্ছতা রয়েছে এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page