
ইরান যুদ্ধ অবসানে শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের সিদ্ধান্তেই খোলা ও বন্ধ হবে। যুক্তরাষ্ট্র পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ইরান অবরোধ অব্যাহত রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কাজেম গরিবাবাদি বলেন, কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, বিমানবাহী রণতরী, আদেশ কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান। শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সংবাদমাধ্যম শাহরারা নিউজকে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নির্ধারিত কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জ্বালানির জন্য কিছুটা বেশি দাম দিতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে জন্য পেট্রোলের কিছুটা বেশি দাম দেওয়া গ্রহণযোগ্য।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে জ্বালানির দাম বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি।
দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প জ্বালানির দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের পর পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে। এর প্রভাব মার্কিন ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।