
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের দিকে। বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার আয়োজন হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আসর। প্রথমবারের মতো ছয়টি দেশ এবং তিনটি মহাদেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্ট।
ফিফার প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের বিশেষ উদ্বোধনী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ২০৩০ সালের ৮ ও ৯ জুন। এই ম্যাচগুলো আয়োজন করবে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ।
এরপর মূল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ শুরু হবে ১৩ ও ১৪ জুন, যা অনুষ্ঠিত হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ জুলাই ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনও প্রকাশ করেনি ফিফা।
২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক তিন দেশ হলো—
অন্যদিকে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে উদ্বোধনী পর্বের একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে—
এর ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ছয়টি দেশ ও তিনটি মহাদেশে।
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইতিহাসের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ। সেই শতবর্ষ স্মরণে উরুগুয়েকে একটি উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রথম বিশ্বকাপের রানার্সআপ ছিল আর্জেন্টিনা। আর দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল (CONMEBOL)-এর সদর দপ্তর প্যারাগুয়েতে হওয়ায় দেশটিকেও একটি ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আয়োজক হওয়ায় সরাসরি মূল পর্বে খেলবে ছয়টি দেশ—
এছাড়া বাকি ৪২টি দল বাছাইপর্বের মাধ্যমে মূল আসরে জায়গা করে নেবে।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এই ফরম্যাট চালু হয়েছে।
তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ফিফা ইতোমধ্যে ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে সৌদি আরবকে চূড়ান্ত করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগতিক ঘোষণা করা হয়।
বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে ২০৩০ সালের এই আসর ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশে ছড়িয়ে থাকা এই আয়োজন বিশ্বকাপকে আরও বৈশ্বিক মাত্রা দেবে।