ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে দেশে আবারও জুলাইয়ের মতো গণঅভ্যুত্থান হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তার বোন মাসুমা হাদি।
শুক্রবার (১৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার ভাই হত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারও এখনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, যারা আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন কিংবা আহত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখনো যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।
প্রতিবেদনে জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
পরে তার মরদেহ দেশে আনা হলে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির নিকটে দাফন করা হয়।
মাসুমা হাদি তার বক্তব্যে বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে শরিফ ওসমান হাদি যে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন ও বিচার নিশ্চিত না হলে জনমনে ক্ষোভ বাড়তে পারে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাসুমা হাদির স্ট্যাটাসটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ মানুষ তার দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, আন্দোলনের সম্মুখসারির কর্মীদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়