1. dsdc.mostafiz@gmail.com : mrahman :
  2. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  3. info@www.media71bd.com : Media 71 :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষঃ
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘অর্ণব’, অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের আশঙ্কা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ দেবে জাপান কালীগঞ্জে আখের ফলন বাড়াতে চাষিদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা মাত্র ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন অভিনেতা সুজাত শিমুল কোটালীপাড়ায় দুই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ, কালীগঞ্জে হাজারো মানুষের ঢল অনলাইন জুয়ার ফাঁদে বিপর্যস্ত পরিবার, নজরদারিতে আসক্তরাও গির্জায় হামলার জেরে সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলা, নিহত ৭ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তারেক রহমান, গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সাপাহারে কেক কেটে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেবেন বুড়িচংয়ে ২৪ কৃষক পরিবার

অনলাইন জুয়ার ফাঁদে বিপর্যস্ত পরিবার, নজরদারিতে আসক্তরাও

এম আর রোমেল, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

মাত্র ২০ বছর বয়সী বিক্রমকে নিয়ে মায়ের স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু অনলাইন জুয়ার নেশায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। মায়ের স্নেহ ও শাসনেও ফেরানো যায়নি তাকে। জুয়া খেলা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে মাকে মারধর করে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বিক্রম। পরে জুয়ায় ক্রমাগত অর্থ হারানোর হতাশায় নিজেও আত্মহত্যা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর বনানীতে।

শুধু বিক্রম নয়, অনলাইন জুয়ার কারণে আরও অনেক পরিবার বিপর্যস্ত হচ্ছে। চট্টগ্রামের বন্দর এলাকায় জুয়ায় টাকা হারানোর পর স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠে মো. জাবেদের বিরুদ্ধে। গত ১০ আগস্ট রাজধানীর তুরাগে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে হাসান (২৩) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেন। এভাবে অনলাইন জুয়ার আসক্তি ঘিরে আর্থিক ক্ষতি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও অপরাধের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়া। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। শুধু জুয়া পরিচালনাকারী চক্র কিংবা বিদেশি প্ল্যাটফর্মের বাংলাদেশি এজেন্ট নয়, অনলাইন জুয়ায় জড়িত ব্যক্তিদেরও গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটেছে। অল্প সময়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের লোভে তরুণদের একটি অংশ এতে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে জুয়ার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযানে একের পর এক গ্রেপ্তার হচ্ছেন জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের সদস্যরা, যাদের বড় একটি অংশ বিদেশি জুয়া প্ল্যাটফর্মের বাংলাদেশি এজেন্ট।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পাশাপাশি অনলাইন নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে জুয়া পরিচালনাকারীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে লেনদেন করছে। তবে এসব লেনদেনও নজরদারির আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্যবহৃত অনলাইন জুয়ার সাইটগুলোর বেশির ভাগই বিদেশ থেকে পরিচালিত হয়। এসব প্ল্যাটফর্মে টাকা জমা দেওয়া ও উত্তোলনের কাজ স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এজেন্টরা ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট খুলতে সহায়তা করেন এবং নির্দিষ্ট বিকাশ, নগদ বা রকেট নম্বরে টাকা পাঠানোর নির্দেশনা দেন।

বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন গ্রাহক সংগ্রহের জন্য এজেন্টরা কমিশন পান। পাশাপাশি গ্রাহকদের জমা দেওয়া অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ এবং নিয়মিত মাসিক বেতনও তাদের দেওয়া হয় বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

এভাবে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত কিছু এজেন্ট বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর শাজাহানপুর থেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার একাধিক সাইটের ‘অ্যাডমিন’ ও ‘সুপার এজেন্ট’ হিসেবে পরিচিত অহিদুর রহমানকে (৪৩) আটক করে র‍্যাব, যা বর্তমানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সে সময় র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অহিদুর ও তাঁর সহযোগীরা জুয়ার সাইট পরিচালনা করে অর্জিত অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত আরেক ব্যক্তি হিসেবে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের কিয়াম উদ্দিনের ছেলে আনোয়ারের (৩২) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ‘অনলাইন ক্যাসিনো সম্রাট’ নামে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিকাশকর্মী থেকে জুয়ার এজেন্ট হয়ে ওঠা আনোয়ারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং ও অবৈধ জুয়া চক্রের বাংলাদেশ অংশের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী সুমন রায়কে (২৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরেক জুয়া এজেন্ট স্নিগ্ধ সিকদারকে (৩১)। তাঁদের বিরুদ্ধেও অবৈধ জুয়ার অর্থে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডির পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে এসব সাইটে অর্থ লেনদেন হয়। এজেন্টরা জুয়ার অর্থ জমা ও উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নতুন জুয়া সাইটের গ্রাহকসেবা পরিচালনার দায়িত্বেও থাকেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার সময় এসব সাইটে অর্থ লেনদেন বেড়ে যায় বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, জুয়া পরিচালনাকারী এজেন্টদের পাশাপাশি অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এসআরবি, সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা এ বিষয়ে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর আদাবরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অনলাইন জুয়া খেলার সময় মো. রাকিব হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে আটক করে এসআরবি-২। গত ২০ অক্টোবর গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আটজনকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-১৩। এ ছাড়া ১৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাদেমপাড়ার একটি চায়ের দোকান থেকে অনলাইন জুয়া খেলার সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চারজন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর পাবনার আতাইকুলা থেকে আরও চারজনকে আটক করা হয়।

এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার কারণে তরুণদের একটি অংশ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থ হারানোর হতাশা থেকে কেউ কেউ মাদক, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তরুণদের এ ধরনের অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ২০২৭ সালের মধ্যে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত মানুষের সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অনলাইন জুয়ার বাজারের আকার প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা বা ৬২ থেকে ৬৮ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর এ বাজার ৪ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়ছে।

অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকার গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬’ পাস করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অনলাইন জুয়া, বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ধরনের জুয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আইনে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ায় জড়িত থাকার দায়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অনলাইন বেটিংয়ে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি জুয়ার প্রচার ও বিজ্ঞাপনকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানো, আর্থিক লেনদেনের অপব্যবহার ঠেকানো এবং আসক্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page