
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নিয়োগের তালিকা বাতিলের দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, এনসিপির নেতা-কর্মী ও নিয়োগবঞ্চিত ব্যক্তিরা এ বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের বিষয়টি জানাজানি হলে বেলা ১টার দিকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, এনসিপির নেতা-কর্মী ও নিয়োগপ্রত্যাশীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় চত্বর প্রদক্ষিণ করার একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় উঠে যায়। সেখানে একটি অফিস কক্ষের জানালা ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বেলা ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এলাকায় তখনও উত্তেজনা ছিল।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের তালিকা করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। এ কারণে তারা তালিকা বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের দাবি জানান।
ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে যারা নিয়োগ পেয়েছে, তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোক। ছাত্রদলসহ সাধারণ মানুষের দাবি, এই ফরমায়েশি নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হোক।’
এনসিপির জেলা যুগ্ম সমন্বয়ক মাকসুদুর রহমান আরিফ বলেন, ‘কারসাজির মাধ্যমে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই সুপারিশকৃত নিয়োগের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি চাই আমরা।’
জয়নাল আবেদীন ও মাকসুদুর রহমান আরিফের ডাকে আয়োজিত কর্মসূচিতে ছাত্রদল, যুবদল, এনসিপির নেতা-কর্মী এবং নিয়োগপ্রত্যাশীরা অংশ নেন।
এদিকে ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান দুখুকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, ‘একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি ইউএনও অফিস ভাঙচুর করতে গেলে আমি ভিডিও ধারণ করা শুরু করি। এ সময় তারা আমাকে মারধর করে। এখানে ভিডিও ধারণ করা কি অপরাধ? যারা অন্যায়ভাবে আমাকে মারধর করেছে, তাদের শাস্তি চাই।’
তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার পদে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে সেখান থেকে মেধার ভিত্তিতে ৭৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তারাই ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর করেছেন।’
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, ‘সকালে পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সবসময় সজাগ রয়েছে।’