
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নতুন করে চালানো একাধিক হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি জানাজার মিছিলে ড্রোন হামলার ঘটনায় প্রাণ হারান।
শনিবার (১৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা স্থানীয় হাসপাতাল ও গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজা শেষে নুসেইরাতের আহমদ ইয়াসিন মসজিদ থেকে শোকযাত্রা বের হওয়ার সময় একটি ড্রোন থেকে হামলা চালানো হয়। আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ বলেন, জানাজা শেষে মানুষ মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় মিছিল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেছে, তারা মধ্য গাজায় একটি “সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু” লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলায় বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
এ ঘটনায় হামাস তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতির পরিবেশেও গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীদের এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার গাজার অন্যান্য এলাকাতেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উত্তরের বেইত লাহিয়ায় একটি স্কুলসংলগ্ন এলাকায় হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া আজ-জাওয়াইদা ও আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। গাজা সিটিতে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন শিশু আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি (ACLED)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও গাজায় সহিংসতার মাত্রা কমেনি। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত মে মাসের পর থেকে হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত মাসে ৪০টির বেশি বিমান হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে গাজায় শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান ও হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।